kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অস্ত্রোপচার টেবিলে রোগী শুয়ে, চিকিৎসক চম্পট

মান্দায় প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

নওগাঁ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সংকটাপন্ন রোগীকে অস্ত্রোপচার কক্ষে ফেলে পালিয়েছেন চিকিৎসক। সেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

গত রবিবার রাতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া বাজারের অনন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারকারী সারোয়ার আলম স্বরূপ রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা।

মৃত প্রসূতির নাম নার্গিস আক্তার (২৪)। তিনি উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. খোকনের স্ত্রী। সোমবার সকালে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্লিনিক ভাঙচুর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সেবিকা সালমা সুলতানা ও আয়া নাজনীনকে আটক করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মৃতের স্বজনরা জানায়, সিজারিয়ানের (অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব) জন্য রবিবার বিকেলে নার্গিসকে অনন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। কন্যা প্রসব করেন তিনি। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তাঁর দুই সহযোগীসহ ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ইসলাম সটকে পড়েন। ক্লিনিকের সেবিকা ও আয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের একটি কক্ষে আটক করে রাখা হয়।

আটক সেবিকা সালমা সুলতানা বলেন, ‘সরকারি ডাক্তার সারোয়ার আলম অপারেশন করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাঁকে অপারেশন টেবিলেই ফেলে রেখে ডাক্তারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। সেখানেই রোগীর মৃত্যু হয়। ’ সালমা সুলতানা জানান, নাচোল উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে জামিলুর রহমানের মাধ্যমে সারোয়ার আলমকে ডেকে আনা হয়েছিল। তবে অবেদনবিদ চিকিৎসক (অ্যানেস্থেসিয়ান) কে ছিলেন সেবিকা তা জানাতে পারেননি।

নাচোল জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘জামিলুর রহমান জননী ক্লিনিকে পার্টটাইম কাজ করেন। এ ছাড়া ডাক্তার সারোয়ারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেন। চিকিৎসা বিষয়ে জামিলুরের কোনো সনদ রয়েছে কি না তা জানি না। ’ মৃতের ভাই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বোন তো মারা গেছে। তাঁর কন্যা এখন বাঁচবে কী করে?’ এদিকে সংবাদ পেয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদ উজ জামান ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়াজনিত ত্রুটি ও অপারেশন থিয়েটারের অব্যবস্থপনার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ’ রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সারোয়ার আলম স্বরূপ এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। মান্দা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ’ এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোজাহার হোসেন বলেন, ‘তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ’


মন্তব্য