kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভোলার মেঘনায় ফের ১৫ জেলেকে অপহরণ

ভোলা প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভোলার মেঘনায় ফের ১৫ জেলেকে অপহরণ

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা অবস্থায় হামলা চালিয়ে ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে হাতিয়ার জলদস্যু সম্রাট আলাউদ্দিন বাহিনী। অপহৃত জেলে ও ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা।

খবর পেয়ে জলদস্যুদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে হাতিয়া জোনের কোস্ট গার্ড। কয়েক দিন আগে মেঘনা থেকে জেলে অপহরণের পর গত শনিবার রাতে ফের এ ঘটনা ঘটল।

মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য আড়তদার ও হামলায় আহত কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, সুজন, জামাল, আলাউদ্দিন, শাহআলম, লোকমান, জাফর, সেলিম, ইলিয়াছ, জাহাঙ্গীর, শাহাবউদ্দিন ও আব্দুল হাই মাঝি বদনার চরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, কৃঞ্চ, রুবেল ও আরিফ বাহিনী জাগলার চর থেকে ট্রলারযোগে এসে দেশীয় অস্ত্র এবং ছররাগুলি ছুড়ে জেলেদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা হামলা চালিয়ে জেলেদের জিম্মি করে প্রতি ট্রলার থেকে একজনকে অপহরণ করে হাতিয়ার দিকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়।

জলদস্যুদের হামলায় আহত জেলে লোকমান জানান, অপহৃত জেলেরা সবাই মনপুরার বাসিন্দা।

স্থানীয় আড়তদার লিটন হাওলাদার ও টিটু ভূইয়া জানান, জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে জলদস্যুরা। প্রায় সময় হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী মনপুরার জেলেদের ওপর হামলা চালায়। জেলেদের জিম্মি করে তারা মুক্তিপণ আদায় করে। হাতিয়ার কোস্ট গার্ড একটু সোচ্চার হলে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা করার সাহস পেত না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে হাতিয়া জোনের কোস্ট গার্ড প্রধান লে. কমান্ডার ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা জলদস্যুদের হামলার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনায় অভিযান পরিচালনা করি। অপহৃত মাঝি ও ট্রলার উদ্ধার করতে আমরা মেঘনায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কয়েকটি টিম ইতিমধ্যে মেঘনার বিভিন্ন চরে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এখনো অপহৃত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ’ মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কতজন মাঝিকে অপহরণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনো পাইনি। আমি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। ’

নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার

ভোলার বোরহানউদ্দিনে এমভি ফারহান-২ লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে আরিফের (২৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের তিন দিন পর রবিবার সকালে আলিমুদ্দিন-শেল্টার বাজারসংলগ্ন এলাকার মেঘনা তীর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হলো। আরিফ উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাটামারা গ্রামের মো. মানিকের বড় ছেলে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমভি ফারহান-২-এর ধাক্কায় পাঁচ মাঝিসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আরিফের খোঁজ মেলেনি। অবশেষে গতকাল তাঁর লাশ পাওয়া গেল।

পুলিশের উপপরিদর্শক মো. ইদ্রিস জানান, আরিফ নিখোঁজের দিনই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। লাশের শরীরে কাটা চিহ্ন দেখা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদরে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য