kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উছলে ওঠা জোছনায় আলোকিত হাওর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উছলে ওঠা জোছনায় আলোকিত হাওর

হাওরের ভাসমান মঞ্চে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় উদ্বেলিত দর্শক। ছবি : কালের কণ্ঠ

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আকাশে মেঘ কেটে যখন চাঁদ উঁকি দেয়, তখন উছলে ওঠা জোছনায় আলোকিত হয় হাওর। এই অনন্য মুহূর্ত দেখে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে পর্যটকরা।

রাত যত গভীর হয়, তত সুরের মূর্ছনা বাড়তে থাকে। নীরব হাওরে মরমি সুর হাহাকার করে ওঠে। শনিবার ভোরে নিলাভ জলে মুখ ধুয়ে দিন শুরু করে আগতরা।

আন্তর্জাতিক রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের রৌয়া-রূপাভূই বিলের মধ্যবর্তী স্থানে ভাসমান নৌকায় বসে গত শুক্রবার রাত উদ্যাপনের দৃশ্য এটি। শতাধিক নৌকা হিজল-করচের বাগানঘেরা হাওরে অবস্থান করছিল। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইকোট্যুরিজমের দাবিতে উপজেলা পরিষদ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জোছনা উৎসবের অংশ ছিল এটি। প্রথম রাত হাওরে কাটানোর পর গতকাল শনিবার পাহাড়ের ওপর যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থান করছে পর্যটকরা। আজ রবিবার সকালে শেষ হবে এ উৎসব।

এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাহিরপুর উপজেলায় আসে পর্যটকরা। বিকেল ৫টায় টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে নৌবহর নিয়ে যাত্রা করে তারা। টাঙ্গুয়ার হাওরের নিকটবর্তী পাহাড়ের নিচে টেকের ঘাট খনিজ প্রকল্প ও প্রকল্পের নিলাভ লেক ঘুরে দেখে তারা। সন্ধ্যার আগে পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরে আসে। এখানে এই হাওরের গহিন বিলখ্যাত রৌয়া-রূপাভূই বিলে পর্যটকবাহী শতাধিক নৌকা নোঙর করে। নৃত্য দিয়ে খুদে শিল্পীরা জোছনা উদ্যাপন শুরু করে। পরে একটি বাল্কহেডের ছাদের মঞ্চ থেকে ভাসমান নৌকায় সংগীতের সুর মূর্ছনায় মেতে ওঠে তারা। হাওরাঞ্চলের বাউল শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ, হাসন রাজা, দুর্বিন শাহ, সৈয়দ শাহ নূর, ক্বারী আমির উদ্দিনের গান পরিবেশন করেন শিল্পী শাহনাজ বেলি, আশিক হাসান, ঐশী প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পীরা নানা ধরনের গান পরিবেশন করেন।

জোছনা উৎসব উদ্যাপনের আগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক বাবরুল হাসানের সঞ্চালনায় ও তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শাহানা রব্বানী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

এদিকে রাতভর জোছনা উদ্যাপন শেষে গতকাল সকালে পর্যটকবাহী নৌকাগুলো হাওরের মধ্য দিয়ে বৌলাই-পাটলাই নদী হয়ে যাদুকাটা নদীতে পৌঁছেছে। এখানে রাতে আদিবাসীদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক পর্ব উদ্যাপিত হবে ঘন সবুজের অরণ্য বড়গোপ টিলায়। রবিবার সকালে দুই দিনব্যাপী উৎসবের শেষ হবে।

উৎসবের আয়োজক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘পরিবেশ-প্রতিবেশ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যের এই অনন্য জলাভূমিতে আমরা জোছনা উদ্যাপন করেছি। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এসে যোগ দিয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করেছে। আমরা টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুরকে কেন্দ্র করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছি। ’

সুনামগঞ্জ জেলা সমবায় কার্যালয়ে চাকরি করেন হিরন্ময় রায়। তিনি জোছনা উৎসবে রাত কাটানোর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘জীবনের একটি অনন্য রাত কাটালাম। হাওরের আকাশের চাঁদকে মনে হয়েছে সাকি আর জোছনাকে মনে হয়েছে সুরা। জোছনাসুধা পান করেই রাত কাটিয়ে দিয়েছি। ’


মন্তব্য