kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ লাখ টাকা চাঁদা চাইলেন ছাত্রলীগ নেতা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ লাখ টাকা চাঁদা চাইলেন ছাত্রলীগ নেতা

জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ ত্রিমোহনী বাজারের একটি অটো রাইস মিলের মালিক ওই অভিযোগ করেন।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে এ ঘটনায় থানায় মামলা করেননি ওই রাইস মিলের মালিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রেজা ঈদের আগে অটো রাইস মিল মালিক মোস্তাফিজার রহমান দুলুর কাছে চাঁদা দাবি করেন। ঈদের আগে তাঁর পক্ষ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বাছির আলী ওই মিল মালিকের সঙ্গে দেখা করলে তাঁকে দুই হাজার টাকা ঈদের সেলামি দেওয়া হয়। এ সময় বাছির মোবাইল ফোনে রেজাকে ধরিয়ে দিয়ে দুলুকে বলেন, রেজা যেভাবে বলেন, সে অনুযায়ী যেন তিনি কাজ করেন। তখন মোবাইলে রেজা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন, ওই টাকা না দিলে মিলের চাকা বন্ধ হয়ে যাবে।

মিল মালিক দুলু বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার ক্ষেতলাল পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর জুলফিকার আলী চৌধুরীকে জানান। কাউন্সিলর ছাত্রলীগ নেতা রেজাকে ডেকে কথা বলেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। উল্টো কাউন্সিলরকে বকাবকির পাশাপাশি মিল মালিককে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন রেজা। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলরের লোকজন রেজাকে ধরার জন্য শাখারুঞ্জ ত্রিমোহনী বাজারে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে রেজা কেটে পড়েন। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে মিল মালিক মোস্তাফিজার রহমান দুলু সবার সামনেই চাঁদা দাবির বিষয়টি জানান। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় মিল মালিক রাতেই ক্ষেতলাল থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে অভিযোগ না জানিয়েই তিনি ফিরে আসেন।

দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবু বক্কর সিদ্দিক রেজার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাঁরা বিব্রত। এর আগে চাঁদাবাজির কারণে তাঁকে একাধিকবার পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কাজে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে আসলে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

মিল মালিক মোস্তাফিজুর রহমান দুলু কালের কণ্ঠকে জানান, ২০ লাখ টাকা না দেওয়ায় মোবাইলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে মিল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশকে জানানো হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে থানায় জিডি করার জন্য তিনি লোকজন নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে তিনি ফিরে আসেন।

ক্ষেতলাল পৌরসভার কাউন্সিলর জুলফিকার আলী চৌধুরী জানান, স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় মামলা করা হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ঘটনা সত্যি হলে ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি।

ক্ষেতলাল থানার ওসি আব্দুর রশিদ ভদ্র বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়পুরহাট ২ (ক্ষেতলাল-কালাই-আক্কেলপুর) আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমি ছেলেটির ওপর খুবই বিরক্ত। আগামী কাউন্সিলে তাকে আর দলে রাখা হবে না। ’


মন্তব্য