kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাতকানিয়া

মুখোশধারীর গুলিতে আ. লীগ নেতা নিহত

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোহাম্মদ জহিরুল হাসান (৪৩) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গত শনিবার রাতে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের বকশিরখীল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও বকশিরখীলের মৃত কবির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ জহিরুল হাসান বাড়ির পাশের দোকান থেকে ঘরে ফিরছিলেন। তিনি ঘরের উঠানে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হাসান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এরপর স্থানীয় লোকজন হাসানকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন ও থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাইসুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুলিবিদ্ধ হাসান ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাঁর পিঠ, মুখ ও পায়ে গুলি লেগেছে। মূলত পিঠে লাগা গুলির কারণে মারা গেছেন।

নিহতের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে আমরা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে চট্টগ্রামে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পর হাসান বাড়ির পাশের একটি দোকানে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি কাজে তাঁকে ফোন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মোবাইলে ব্যালান্স না থাকায় ফোন করতে পারছিলাম না। এ জন্য মোবাইলের কার্ড আনতে আমার ছেলেকে টাকা এবং টর্চলাইট হাতে দিয়ে দোকানে পাঠাচ্ছিলাম। ঘরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখি উঠানে আমার স্বামীকে পেছন দিক থেকে পর পর কয়েকটি গুলি করে দুজন লোক পালিয়ে যাচ্ছে। তখন আমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ’

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী জানান, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হাসানকে হত্যা করেছে। সম্প্রতি কাঞ্চনার বকশিরখীল এলাকার একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বই উদ্ধার করে।

শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় হাসান পুলিশের সোর্স হিসেবে ব্যবহার হয়েছে দাবি করে তারা হাসানকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে তারা গুলি করে হাসানকে হত্যা করেছে।

সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে আওয়ামী লীগ নেতা হাসানকে হত্যা করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত থাকতে পারে, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।


মন্তব্য