kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাঁশখালীতে ঈদের আগে সরকারি চাল বিতরণ হচ্ছে না

২৫ হাজার দুস্থের আনন্দ মাটি

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৫ হাজার দুস্থের আনন্দ মাটি

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও প্রার্থীদের দ্বন্দ্বের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার দুস্থ মানুষ ঈদের আগে সরকারি চাল পাচ্ছে না। এ কারণে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে।

উপকূলীয় এলাকায় এমন পরিবারও আছে, যারা এই চাল না পেলে অনাহারে থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। চাল বিতরণ হলে বর্তমান চেয়ারম্যানদের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে—এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তা তুলতে দিচ্ছেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আদেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইউপি সচিবদের নামে ভিজিএফ চাল উত্তোলনের ছাড়পত্র দেন। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতপন্থী চেয়ারম্যানদের চাপের মুখে সচিবরা চাল ছাড় করাননি। ওই চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ। এ ছাড়া উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বাহারছড়া ও শীলকূপ ইউনিয়নের চাল ছাড় করানো হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলো বিতরণ করা হয়নি।

পিআইওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীতে ২৪ হাজার ৪৭২ জন দুস্থ মানুষের জন্য ২২৭ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এই চাল বিতরণের শেষ তারিখ ছিল গত ৮ সেপ্টেম্বর। এ কারণে গত ৭ সেপ্টেম্বর ইউপি সচিবদের নামে ভিজিএফ চাল উত্তোলনে নতুন ছাড়পত্রের আদেশ দেন ইউএনও। ওই আদেশের পর বিএনপি-জামায়াতপন্থী কয়েকজন চেয়ারম্যান বেঁকে বসেন। এ কারণে সচিবরা চাল উত্তোলন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১৪ ইউনিয়নের কোথাও চাল বিতরণ করা হয়নি।

উপজেলার শেখেরখীল গ্রামের মৃত কালু মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬০)। তিনি একেবারে দুস্থ। তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, ‘চাল পেলে কয়েক দিন ভালোমতো খেতে পারি। না পেলে না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদের দিন কী খাব জানি না। ’

উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও কালীপুর ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যানরা পরিষদের যাবতীয় কাগজপত্রে সই করছেন। শুধু ভিজিএফ চাল নিয়ে কেন এত হইচই? কিছুদিন আগে ভিজিডি করেছি, তাতে তো আপত্তি ছিল না। আমরা নির্বাচনে প্রার্থী হলেও অন্য বিষয়গুলোতে কেন সই নেওয়া হচ্ছে? বিষয়টি স্থায়ী সুরাহা প্রয়োজন। ’

পিআইও মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাজ আমরা করেছি। কেন ভিজিএফ চাল উত্তোলন করা হলো না তা আমরা জানি না। ভিজিএফ চাল উত্তোলন যে কেউ করতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। প্রকৃতপক্ষে চালটা প্রকৃত হতদরিদ্ররা পাচ্ছে কি না তা দেখার বিষয়। তবে ঈদের আগে হতদরিদ্ররা চাল না পাওয়াটা দুঃখজনক। ’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুদত্ত চাকমা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গুদাম থেকে চাল সরবরাহ করতে সর্বদা প্রস্তুত। যাদের নামে চাল উত্তোলনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তারা এলে চাল দেওয়া হবে। হতদরিদ্ররা ঈদের আগে চাল পেলে উপকৃত হবে। ’

ইউএনও কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী বলেন, ‘হতদরিদ্রদের ঈদের আগে চাল দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’


মন্তব্য