kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ

শুরুতেই নানা অনিয়ম

গোপালগঞ্জ রাজবাড়ী

রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সরকার প্রতিশ্রুত হতদরিদ্রদের মাঝে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ীতে চাল বিক্রির জন্য দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জেলার ৪২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার ৫৬ হাজার ২১২ জন কার্ডধারীকে ১০ টাকা মূল্যে চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত মাত্র চারটি ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারগুলো এ সুবিধা পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীরা এ বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিলে জনপ্রতি ৩০ কেজি হারে চাল কিনতে পারবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজন পড়ছে আট হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন চাল। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে খাদ্য অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলার ৪২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌর এলাকার জন্য ১০৭ জন ডিলার নিয়োগ করে। ওই ডিলাররা প্রতি কেজিতে চালে দেড় টাকা হারে কমিশন বা পরিচালন ব্যয় পাবেন। সেই সঙ্গে ওই চালের বস্তা পাবেন ফ্রি।

এদিকে রাজবাড়ী বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি। দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে যথাযথ পর্যবেক্ষণ না থাকলে এ চাল নয়ছয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দত্ত জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ওই চাল বিক্রি শুরু করা হয়। শনিবার জেলা সদরের দাদশী ও বাণিবহ, পাংশার মাছপাড়া এবং কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নে চাল বিক্রি করা হয়। বাকি ইউনিয়নে এখনো কার্ডধারীদের তালিকা প্রণয়ন না হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের ট্যাগ অফিসাররা ঈদের ছুটিতে থাকায় চাল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ওই সব ইউনিয়নে ঈদের পর চাল বিক্রি করা হবে। বর্তমানে দুই মাসের চাল মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে বাকি চাল পাওয়ার জন্য তারা চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের শুরুতেই গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকটি স্থানে পরিমাপে কম দেওয়া, একই পরিবারে একাধিক কার্ড বিতরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

গোপালগঞ্জ সদরের হরিদাসপুর ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের লিটু মোল্লা, কাবুল খান ও সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুর রহমান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ডিলার ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে ২৮-২৯ কেজি করে চাল দিচ্ছে। তা ছাড়া একই পরিবারের মধ্যে একাধিক রেশন কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আর এ কারণে অসংখ্য দরিদ্র সরকারের দেওয়া এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁরা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। এ সময় কম দামে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে কার্ডপ্রতি ৩০ কেজি চাল পেয়ে হতদরিদ্র লোকজন খুবই খুশি। অথচ একশ্রেণির অতি লোভী ডিলার প্রত্যেককেই এক-দুই কেজি করে চাল কম দিচ্ছে। চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে তিন শ টাকা নিয়েছে। কিন্তু চাল দিয়েছে ২৮ থেকে ২৯ কেজি। এ বিষয়ে তাঁরা বলেন, বস্তায় চাল কম থাকায় তারাও কম দিয়েছে। ’

সূত্রমতে, সরকার দেশের হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে খাদ্যশস্য বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এরই অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ৪২ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার হতদরিদ্রের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। ডিলার বদর মোল্লা চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, গোডাউন থেকে চাল আনার সময় কিছু ঘাটতি হয়। সে ঘাটতি মেটাতেই তিনি কিছু কার্ডধারীকে মাপে কম দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ গুপ্ত জানান, গোডাউন থেকে চাল কম দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ওই অজুহাতে কার্ডধারীদের চাল কম দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। হরিদাসপুর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীনেশ জয়ধর বলেন, চাল কম দেওয়ার ব্যাপারটা জানতে পেয়ে পরে তা শোধরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল তদন্ত করতে গিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য সরকার ঘোষিত ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া কর্মসূচি যাতে কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন অভিযোগ পেয়ে একটি বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান জানিয়ে বলেন, তিনি ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।


মন্তব্য