kalerkantho


শিবগঞ্জে তেলের পাম্পে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শিবগঞ্জে তেলের পাম্পে আগুন

বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে তেলের পাম্পে গত শুক্রবার রাতে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা তা নেভানোর চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের ২০টি দোকান পুড়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শিবগঞ্জে আগুনে পুড়েছে জ্বালানি তেলের পাম্পসহ পাশের অন্তত ২০টি দোকান। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট রাত ১টার দিকে চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তাতে দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ স্থানীয় আরো পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বাজারের মেসার্স নওসিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি তেলের পাম্পে শুক্রবার রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে তেলের পাম্পসহ আশপাশের কমপক্ষে ২০টি দোকান ভস্মীভূত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট রাত ১টার দিকে চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ স্থানীয় আরো পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার কিচক বন্দরের একতলা ভবনে জ্বালানি তেলের পাম্পের সঙ্গে একই মালিকের ১২টি দোকান ছিল। সেখানে তেল বিক্রির পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার, কীটনাশক ওষুধ, সার ও কেরোসিন বিক্রি হতো। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আগুন লাগার পর পাম্পের পাশের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানকার দোকানগুলো ছাড়াও পাশের বাজারের দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাম্পের পাশের দোকানে সুতা থাকায় সেগুলোতে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য বৃহস্পতিবার রাতে এক ট্রাক গ্যাস সিলিন্ডার তেলের পাম্পে নামানো হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও দাহ্য পদার্থ ছিল বলেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউনুছ আলী জানান, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও সোনাতলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, তেলের পাম্পের সঙ্গে মার্কেটে শাড়ি-কাপড়, ওষুধসহ প্রায় ২০-২২টি দোকান মালামালসহ পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বগুড়া-জয়পুরহাট মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতে সড়কের দুই পাশে যাত্রী ও গরুবোঝাই অনেক বাস-ট্রাক আটকা পড়ে। পরে রাত ২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, ওই পাম্পের কোনো অনুমোদন ছিল না। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ওই পাম্পের অনুমোদন রয়েছে জানিয়ে মেসার্স নওসিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ৫০ লক্ষাধিক টাকার তেল পুড়ে গেছে।


মন্তব্য