kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

শান্তির পথে ওরা

সুন্দরবনে তিন দফায় ৩৫ দস্যুর আত্মসমর্পণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনে গত তিন মাসে পাঁচটি জলদস্যু-বনদস্যু বাহিনীর ৩৫ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় দস্যুরা বিপুলপরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছে।

দস্যুদের এ আত্মসমর্পণ দেখে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের শান্ত বাহিনী, আলম বাহিনী প্রধানসহ ১৪ জন বরিশাল নগরীর রুপাতলিতে র‌্যাব-৮ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

তারা হলো শান্ত বাহিনীর প্রধান মো. আব্দুল বারেক তালুকদার ওরফে শান্ত, তার দলের সদস্য মো. মনির হাওলাদার, মো. দুলাল ভাণ্ডারী, মো. ফরিদ হাওলাদার, মো. আনিছুর রহমান মোল্লা, মো. বশির আহম্মেদ শেখ, মো. মোস্তফা শেখ, মো. ফরিদ গাজী, নুরুল ইসলাম ও মো. খোরশেদ শেখ। আলম বাহিনীর প্রধান মো. আলম সরদার, তার দলের মো. আছাদুজ্জামান, মো. হালিম গাজী ও মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।

গত ১৫ জুলাই যে ১১ দস্যু আত্মসমর্পণ করেছে তারা হলো মজনু বাহিনী প্রধান মজনু গাজী, তার দলের সদস্য বাবুল হাসান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রহমত, মো. ইদ্রিস আলী, ইসমাঈল হোসেন, মজনু শেখ, মো. রবিউল ইসলাম, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. এনামুল হোসেন, ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান মো. ইলিয়াস গাজী ও তার সহযোগী মো. নাসির হোসেন। গত ৩১ মে যে ১০ দস্যু আত্মসমর্পণ করেছে, তারা হলো মাস্টার বাহিনী প্রধান মো. মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার, মো. সুলতান খান, মো. সোহাগ আকন, মো. ফজলু শেখ, মো. সোলাইমান শেখ, মো. শাহিন শেখ, মো. হারুন, মো. আসাদুল ইসলাম কোকিল, মো. সুমন সরকার ও মো. আরিফ সরদার। আত্মসমর্পণ করা এসব দস্যুদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

আত্মসমর্পণের পর কয়েকজন দস্যু বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বাধ্য হয়ে তারা দস্যু বাহিনীতে নাম লিখিয়েছেন। দস্যুজীবন বেছে নেওয়ার পর থেকে তাদের দিনরাত কেটেছে শঙ্কার মধ্যে। ভুল পথে গিয়ে তারা প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলে জানায়, এসব দস্যুরা সুন্দরবনে এক সময় তাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দস্যুদের তাণ্ডবে জেলেরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। জেলেদের কাছে দস্যুরা মূর্তিমান আতঙ্ক। কোনো কোনো জেলে এরই মধ্যে পেশা বদল করেছে। সুন্দরবনের অন্য দস্যুদেরও আত্মসমর্পণের দাবি জানায় জেলেরা। বন দস্যুমুুক্ত হলে জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারবে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ১৯৯ জন দস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ৬১২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬ হাজার ৪৫১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। বরিশাল র‌্যাব-৮-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সুন্দরবনের প্রতিটি নদী ও শাখাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিরাম অভিযানের ফলে দস্যুদলের কার্যক্রম কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তাদের অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। দস্যুরা তাদের নিজেদের অপরাধ বুঝতে পেরে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আইনের কাছে নিজেদের সোপর্দ করছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করছে।


মন্তব্য