kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

হাত বাড়ালে বিষ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাত বাড়ালে বিষ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গত এক বছরে (জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত) ২২৫ জন বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মুরাদনগর থানার অপমৃত্যু মামলার নথি ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলার অন্য কোনো উপজেলায় এত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি।

গত এক মাসে ২০টি গ্রাম ঘুরে অভিভাবক ও তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প বয়সে ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। মা-বাবার শাসন বা প্রেমে ব্যর্থ হলে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। বড়দের ক্ষেত্রে নির্যাতন, নেশা ও পারিবারিক কলহ দায়ী।

আইনে আছে, উপজেলা কৃষি অফিসের লাইন্সেস ছাড়া কেউ কীটনাশক বিক্রি করতে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, যে ব্যবসায়ী কীটনাশক বিক্রি করবেন, তাঁর দোকানে অন্য কোনো মালামাল রাখা যাবে না। যার কাছে কীটনাশক বিক্রি করবেন সে প্রাপ্তবয়স্ক ও পরিচিত হতে হবে। অপরিচিত হলে তার নাম-ঠিকানা লিখে রাখতে হবে। ব্যবসায়ীর দোকানঘর আধাপাকা হতে হবে। আলমিরাতে ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এ উপজেলার চিত্র ভিন্ন। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ইঁদুর মারার ওষুধ ও কীটনাশক (কেরির বড়ি)। ফলে হাতের কাছে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের বিষ পেয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।

উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারের প্রবীণ সার, বীজ ব্যবসায়ী প্রদীপ বলেন, ‘আমি পাইকারি বিক্রেতা। নিয়মকানুন মেনে ওষুধ ও বীজ বিক্রি করি। অন্যথায় লাইসেন্স হারানোর ভয় আছে। যাদের লাইসেন্স নেই তারা দুই পয়সা লাভের আশায় যার-তার কাছে বিষ বিক্রি করছে। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং সভা-সেমিনার বা উঠান বৈঠক করে গ্রামের মুদি দোকানি বা ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে পারে। এ ধরনের বিষ বিক্রি থেকে বিরত থাকতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আবু জাহের বলেন, ‘বিষ খেয়ে হাসপাতালে প্রায়ই কেউ না কেউ আসে চিকিৎসা নিতে। অ্যান্টির্যাট (ইঁদুর মারার ওষুধ) তৈরি হয় অ্যামোনিয়াম ফসফাইট দিয়ে, যা মানবদেহের পাকস্থলীতে গিয়ে পানি পেলে দ্রুত বিষাক্ত ফরজিন গ্যাসে পরিণত হয়। এটা শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মানুষ খুব দ্রুত মারা যায়। পাকস্থলী ওয়াশ (পরিষ্কার) করেও বাঁচানো যায় না। ’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘এ উপজেলায় ১৩ জন পাইকারি এবং ২১৩ জন খুচরা কীটনাশক বিক্রেতা আছেন। প্রত্যেকে আইন মেনে ব্যবসা করছেন কি না সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি আছে। তা ছাড়া আমাদের ৬৬টি ব্লকে ৮১ হাজার ৯৭১টি কৃষি পরিবার আছে। প্রত্যেকে শস্য সংরক্ষণের জন্য বাসায় কেরির বড়ি রাখে। আমরা এই কেরির বড়ির পরিবর্তে শস্য সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। নিমপাতা বা নিশিন্দাপাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে প্রতি ৫০ কেজি চালের মধ্যে ১০০ গ্রাম গুঁড়া দিলে চলে। কেরির বড়ি ব্যবহারের প্রচলন কমে গেলে আত্মহত্যা কমে যাবে। ’

মুরাদনগর ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আ. কাদের বলেন, আত্মহত্যা মহাপাপ। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু বলেন, ‘এ উপজেলায় যারা আত্মহত্যা করছেন তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কীটনাশক বা ইঁদুর মারার ওষুধ বেছে নিচ্ছে। কারণ তা সহজলভ্য এবং গ্রামে অধিকাংশ বাড়িতে পাওয়া যায়। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে যেন কীটনাশক হাতের নাগালে না থাকে। ’


মন্তব্য