kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামগঞ্জ উপজেলা

১০ টাকা কেজি চাল পাচ্ছে না ৫৭৭১ দরিদ্র

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী (আদমশুমারি ২০১১) জনসংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৬ জন। এ অনুপাতে হতদরিদ্রদের জন্য সাত হাজার ২০০ কার্ড বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল।

অথচ জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ৫৬ হাজার ৬৯৮ জন। এর ভিত্তিতে বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ৪২৯টি কার্ড।

এ কারণে পাঁচ হাজার ৭৭১ জন সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল পাচ্ছে না। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ অভাবী লোকজন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভুলের জন্য তাদের খেসারত দিতে হচ্ছে।

এদিকে, রামগঞ্জে হতদরিদ্র উপকারভোগীর কার্ড সংখ্যার পুনর্নির্ধারণ করতে সম্প্রতি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নয়ন জ্যোতি চাকমা চিঠি পাঠিয়েছেন। খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন বিভাগের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) সংশ্লিষ্টদের এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উপজেলার হাজীপুর গ্রামের রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘কম দামে চাল কেনার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে কয়েকবার গিয়েছি। তাঁরা বলছেন, বরাদ্দ কম আসায় কার্ড নেই। আর আসার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত। ’

রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির আহম্মদ মানিক বলেন, ‘প্রশাসনের ভুলের কারণে হতদরিদ্র মানুষকে খেসারত দিতে হবে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। ’

রামগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জনসংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৬৮৬ জন। ঢাকা থেকে সরবরাহ করা তথ্যতে গরমিল হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে জনসংখ্যার তথ্য সঠিক রয়েছে। ’

লক্ষ্মীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নয়ন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘জনসংখ্যা অনুপাতে পুনরায় কার্ড বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুনরায় বরাদ্দ পেলে এ সংকট লাঘব হবে। ’

লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

উল্লেখ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্মীপুরে ৪২ হাজার ৯৮ জন রয়েছে। জেলার ৫৮টি ইউনিয়নে ৯৫ জন ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্র কার্ডধারীদের বছরের পাঁচ মাস যথাক্রমে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিলে ৩০ কেজি করে চাল ১০ টাকা কেজিতে দেওয়া হবে। শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার এ চাল বিক্রি করা হবে। হতদরিদ্র ছাড়াও প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার নারীরা এ সুবিধা পাবেন।


মন্তব্য