kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাধবদীর নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ মিলল ঈশ্বরগঞ্জে

তিন স্থানে আরো তিন মরদেহ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নরসিংদীর মাধবদীর এক ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় সড়কের পাশ থেকে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি ডাকাত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। এ ছাড়া পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরো দুটি লাশ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : নরসিংদীর মাধবদী থেকে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার লাটিয়ামারির যাদ্দুয়ারচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সোহরাবের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের হাসের আলগী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে। স্থানীয়, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহরাব পাঁচ বছর আগে একটি সুতার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে নরসিংদীর মাধবদীতে যান। সেখানেই তিনি বসবাস করতেন। ফ্যাক্টরির চাকরি ছেড়ে দুই বছর আগে তিনি মাধবদী সদরে একটি দোকান দিয়ে মণিহারি ব্যবসা শুরু করেন। গত শুক্রবার তাঁর দোকান তালাবদ্ধ দেখতে পায় সেখানকার লোকজন। সেখান থেকে তারা সোহরাবের পরিবারের কাছে জানতে চায়, সোহরাব গ্রামের বাড়িতে আছেন কি না। এর পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। গতকাল ঈশ্বরগঞ্জের ওই এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। জানাজানি হলে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ সোহরাবের বলে শনাক্ত করে। এ ব্যাপারে গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আক্তারুজ্জামান জানান, পরিবারের সদস্য ও প্রাথমিক তদন্তে তিনি জানতে পেরেছেন, সোহরাবসহ সাত ব্যবসায়ী ব্যবসার সুবাদে মাধবদীতে একটি সমিতি করেন। সমিতির জমা করা সাত লাখ টাকা ছিল তাঁর (সোহরাব) কাছে। কয়েক দিন আগে ওই টাকা কৌশলে আত্মসাৎ করে আরেক সদস্য। ঈদ উপলক্ষে অন্যরা টাকার জন্য চাপ দিলে সোহরাব বেকায়দায় পড়ে যান। এদিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান বলেন, ‘ঘটনাটি রহস্যজনক। লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ’

চকরিয়া (কক্সবাজার) : চকরিয়া উপজেলায় সড়কের পাশে আকতার হোসেন নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কের সীমান্ত ব্রিজের পশ্চিমাংশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। আকতার কক্সবাজারের রামুর পূর্ব মেরুংলোয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ওই যুবক কোনো সন্ত্রাসী বা ডাকাতদলের সদস্য হতে পারে। লুণ্ঠিত মালের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ সড়কের ধারে ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্যান্টের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে ওই যুবক রামুর বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে রামু থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এদিকে রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ‘ওই যুবক একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত। তার বিরুদ্ধে থানায় অসংখ্য ডাকাতির মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সে ফেরার ছিল। ’

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের কাছে লেম্পু চর থেকে গত মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর দুই হাত জঙ্গলের শক্ত লতা দিয়ে পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল। গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই যুবকের পরনে জিন্সের প্যান্ট এবং টি-শার্ট রয়েছে। মহিপুর থানার ওসি মো. মাকসুদুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ওই যুবককে হাত বেঁধে হত্যা করে লাশ জঙ্গলের ভেতরে ফেলে রেখে চলে গেছে। তিনি পর্যটক, স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক নাকি ব্যবসায়ী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

হবিগঞ্জ : শায়েস্তাগঞ্জ থানার অলিপুর এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে আজগর আলী নামের এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা-সিলেট রেললাইনের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আজগর চুনারুঘাট উপজেলার বড়জুস গ্রামের ওয়াব উল্লাহর ছেলে। তিনি অলিপুরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।


মন্তব্য