kalerkantho


টিভি কিনতে শিক্ষকের কাছে চাঁদা চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে টেলিভিশন কেনার জন্য স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই চাঁদা না দিলে মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করারও হুমকি দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান তসলিম উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টেলিভিশন কেনার জন্য উপজেলার আব্দুল হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব হোসাইনের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে তসলিম ওই টাকা দাবি করে আসছেন। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও টাকা দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি টাকা না দেওয়া হলে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। গতকাল প্রধান শিক্ষক মাহতাব হোসেন বিষয়টি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানালে তসলিমকে কোনো টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক মাহতাব হোসাইন বলেন, ‘আমি রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনজু হাওলাদারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি কোনো টাকা দিতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু সে (তসলিম) আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ফোনে তার চাঁদা দাবি করার ওই কথোপকথন আমার মোবাইলে রেকর্ডিং রয়েছে। ’

তবে অভিযুক্ত রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান তসলিম বলেন, ‘আমি কারো কাছে কোনো টাকা চাইনি। ’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনজু হাওলাদার বলেন, ‘তসলিম শিক্ষকের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টিভি কেনার জন্য চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজির নির্দেশনা কাউকে দেওয়া হয়নি। ’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী একটি রাজনৈতিক দল। সেই দলের কার্যালয়ের জন্য টেলিভিশন কিনতে কেউ চাঁদাবাজি করবে, তা মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে এর প্রমাণ পেলে তসলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 


মন্তব্য