kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লাকসাম রেলওয়ে জংশন

টিকিট নেই কাউন্টারে আছে দোকানে

আবদুর রহমান, কুমিল্লা (দক্ষিণ)   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



টিকিট নেই কাউন্টারে আছে দোকানে

কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় স্টেশনের দোকানগুলোয়। এ ছাড়া জংশনের বুকিং কাউন্টারেও পাওয়া যায়।

তবে যেখান থেকেই টিকিট কিনুন না কেন, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অনিয়ম চলে স্টেশন মাস্টার মো. জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টারের নির্দেশ ও যোগসাজশে বুকিং অফিসের কর্মচারীরা সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে সম্মানী (চাঁদা) দেন স্টেশন মাস্টারকে। যার ফলে যেকোনো ট্রেনের টিকিট পেতে হলে অতিরিক্ত ৫০-১০০ টাকা অথবা অনেক সময় দ্বিগুণ মূল্য দিতে হয়। পেনশন বিতরণেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় স্টেশন মাস্টারকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের বুকিং অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তি বলেন, ‘স্টেশন মাস্টারকে আমরা প্রতিদিন জনপ্রতি কমপক্ষে ১০০ টাকা দিই। মাঝে মাঝে আরো বেশি নেন। তিনি লাকসামে যোগদানের পর থেকে গত দুই বছর ধরে এ কর্মকাণ্ড চলছে। কর্মীদের নামে বরাদ্দ তেলের টাকাও আত্মসাৎ করেন। জংশনের সব কাজের কমিশন নেন। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে শুরু হয় হয়রানি। ’

ট্রেনের যাত্রী আবু বাকার চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান স্টেশন মাস্টার লাকসামে যোগদানের পর থেকে কাউন্টার থেকে শুরু করে জংশনের বিভিন্ন দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এটা অনেকটা প্রকাশ্যে। অথচ ন্যায্য মূল্যে কিনতে এলে বলা হয়, টিকিট নেই। এসব দেখার যেন কেউ নেই। ’

যাত্রী আবুল কাসেম, আবদুল মান্নান, ওমর ফারুক, জসিম উদ্দিন ও আবুল বাশার অভিযোগ করেন, এ জংশনের অবস্থা করুণ। বিশ্রামাগারের অপ্রতুলতা ও শৌচাগার নোংরা। বাধ্য হয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষার করতে হয় যাত্রীদের। চুরির ভয়ে মালপত্র নিয়ে থাকতে হয় শঙ্কায়। ভাসমান পতিতা ও খদ্দের-দালালদের আনাগোনায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যায় না।

লাকসাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বারী মজুমদার জানান, তিনি গত বৃহস্পতিবার মহানগর গোধূলি ট্রেনে চড়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নির্ধারিত ভাড়া ২২৫ টাকা।   কিন্তু নায্য মূল্যে তাঁকে টিকিট দিতে নারাজ বুকিং সহকারী মো. শাহাবুদ্দীন। তাঁর সাফ কথা, টিকিট পেতে হলে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসদাচরণ করেন বুকিং সহকারী। মূহৃর্তের মধ্যে জংশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। তাৎক্ষণিকভাবে জংশনে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি শাহাবুদ্দীনকে তাৎক্ষণিক চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনে বুকিং অফিসে কর্মরত এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শাহাবুদ্দীনের দোষ কোথায়? এ স্টেশনে চাকরি করতে হলে মাস্টারকে টাকা দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করতে হয়। শাহাবুদ্দীন হলেন বলির পাঁঠা। এসব ঘটনার জন্য দায়ী স্টেশন মাস্টার। শাস্তি হলে তাঁকে আগে দিতে হবে। ’

এসব বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি যোগদানের পর টিকিট কালোবাজারি রোধ করেছি। তার পরও প্রতিটি স্টেশনে কিছু ঘটনা ঘটে। আর বুকিং অফিসের কর্মচারীদের কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নেই না। আমার বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ বানোয়াট। ’

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখন এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। তবে আপনি যেহেতু বলেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ’


মন্তব্য