kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিন্ডিকেট সভা ছাড়াই হল বন্ধের একক সিদ্ধান্ত

ক্যাম্পাস ছুটি দিয়ে বিদেশ ভ্রমণে শাবি উপাচার্য!

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপগুলোর সংঘর্ষের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গত বৃহস্পতিবার সব আবাসিক হল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়া একক ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ দেন।

তবে সিন্ডিকেট ছাড়াই এ ধরনের হল বন্ধের নির্দেশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ বলছেন সাবেক সিন্ডিকেট সদস্যরা। এদিকে হল বন্ধ ঘোষণা করে বিদেশ ভ্রমণে গেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া। অন্যদিকে হঠাৎ হল বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

সিন্ডিকেট ছাড়াই আবাসিক হল বন্ধের নির্দেশকে বিধিবহির্ভূত উল্লেখ করে শাবির সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যখনই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখনই জরুরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন একটি নজির তৈরি হলো। একই ধরনের মন্তব্য করেন আরেক সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক উদ্দিনও।

বর্তমান সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘এটার ব্যাখ্যা তো আর আমি দিতে পারব না। উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে তাই হয়তো উপাচার্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ’

এদিকে হল বন্ধ ঘোষণা করে ব্যক্তিগত সফরে গতকাল শনিবার দুপুরে মিয়ানমারসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করতে গেছেন উপাচার্য। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য কবে যাচ্ছেন, তা আমার জানা নেই। তবে তিনি ব্যক্তিগত ভ্রমণে মিয়ানমার যাচ্ছেন। এ সময়টাতে কোষাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ’ উপাচার্যের সফরসঙ্গী হিসেবে কে কে আছেন, সেটাও জানাতে পারেননি তিনি।

কোষাধ্যক্ষ ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস জানান, তিনি আজ (শনিবার) থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে সংক্ষিপ্ত নোটিশে হল বন্ধের সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। হলের আবাসিক ছাত্ররা জানায়, সংক্ষিপ্ত নোটিশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাদের হল ছাড়তে বলা হয়েছিল। তবে তাদের ক্লাস শেষ করে কক্ষে ফিরতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়। তা ছাড়া ৩৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা দিচ্ছেন এমন অনেক শিক্ষার্থীও হলে আছেন। ফলে ব্যাগ গোছাতে স্বাভাবিকভাবে দেরি হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার আগেই শাহ পরান হলের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় হল প্রশাসন।

এ সময় ছাত্ররা অভিযোগ করে, তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কক্ষ থেকে বের করে দেন শাহ পরান হলের সহকারী প্রভোস্ট শাহেদুল হোসেন, জাবেদ কায়সার ইবনে রহমান, প্লাবন চন্দ্র সাহা ও সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক। এমনকি বেশ কয়েকটি কক্ষে ধাক্কা দিয়ে দরজা খোলেন শিক্ষকরা। তবে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক। সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়াকে গত শুক্রবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

চার ছাত্রলীগকর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশসহ ৩৬ জনকে শোকজ এদিকে ফুটবল টুর্নামেন্টের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শাবিতে ছাত্রলীগের কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ছাত্রলীগকর্মীসহ ৩৬ নেতাকর্মীকে বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কারের জন্য সুপারিশকৃতরা হলো ছাত্রলীগকর্মী আজমাইন, রাকিব, তাজবির ও লক্ষ্মণ। এ চারজনকে এক সেমিস্টারের জন্য কেন বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন। গত ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া একই ঘটনায় ১২ জনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানাসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তারা হলো মনোয়ার, ফাইয়াজ, নিয়াজ, তৌকির তন্ময়, রাখশ মণ্ডল, রনি তালুকদার, সজীব, সাখাওয়াত, শাহ আলম, মাহবুব, শাওন ও কামরুল ইসলাম।

এদিকে ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগকর্মী মনোয়ারের ওপর হামলাসহ ওই দিনের ঘটনায় আরো ২০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ৫০০ টাকা করে জরিমানাসহ কেন শাহ পরান হল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় হল প্রশাসন। শাহ পরান হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট মো. শাহেদুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নোটিশ পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হচ্ছে জাকারিয়া, রাব্বী, শিহাব, রুহুল আমিন, কামরুল ইসলাম, নূরে আলম, তৌকির আহমদ তালুকদার, মৃন্ময় দাশ ঝুটন, আবদুল হাদি, আমজাদ, জনি, মোশাররফ, জাকির, আরাফাত ইয়াসিন, বাসিত মিয়া, মুনকির, ইয়ামিন, স্বাধীন, মোমিন ও আজমাইন।


মন্তব্য