kalerkantho


চেয়ারম্যানের আদালতে ধর্ষণের বিচার

ভোলায় যুবকের জরিমানা ৮০ হাজার টাকা

ভোলা প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের আদালতে মামলা করেন মেয়ের মা। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের বিচার সালিসে নিষ্পত্তি করেন চেয়ারম্যান। অভিযুক্তকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অথচ ২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ এবং শিশুর স্বার্থ জড়িত এমন অপরাধ নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের নেই।

মেয়ের মা জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিন মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত ওই এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজিবাড়ির প্রভাবশালী আলমগীরের ছেলে কামাল। ওই যুবক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখাত। কিন্তু রাজি না হওয়ায় গত এক মাস আগে তার ঘরের ভেতরে ঢুকে মেয়েকে নির্যাতন করে। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে প্রথমে যুবককে বিয়ের জন্য চাপ দেয় পরিবার। বিয়ে করতে টালবাহানা করে যুবক। পরে মেয়ের মা-বাবাও যুবককে বিয়ের জন্য অনুরোধ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের মা ৭ নম্বর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি মামলা করেন। চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন শুক্রবার রাতে ইউপি কার্যালয়ে সালিসে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে মেয়ের মায়ের হাতে তুলে দেন। ওই সালিস বৈঠকে শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. বাছেদ মিয়া ও স্থানীয় ফয়েজ আহমেদসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়ের মা বলেন, ‘আমরা গরিব। আর আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে যে ছেলে সে এলাকার প্রভাবশালী। তাই ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ ঘটনার মীমাংসা করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান। ’

অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাড়িতে গেলে কামালের মা কোহিনুর বলেন, ‘আমার ছেলে ও স্বামী বাড়িতে নেই। তারা কাজে গেছেন। ’

ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্কুল ছাত্রীর সম্ভ্রমহানির মীমাংসা করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। ’

ভোলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন লাবু বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা জনপ্রতিনিধিদের বিচার করার আইনগত এখতিয়ার নেই। যাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাঁরা এটা করতে পারেন না। ’


মন্তব্য