kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পার্বত্য ভূমি আইন সংশোধনের পর প্রথম সভা আজ

পাহাড়ে হরতাল, সভাস্থল ঘেরাও করবে বাঙালিরা

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পার্বত্য ভূমি কমিশনের আইন সংশোধনের পর প্রথমবারের মতো আজ রবিবার রাঙামাটিতে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা বসছে। সভায় অংশ নিতে কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক গতকাল শনিবারই রাঙামাটিতে এসে পৌঁছেছেন।

কমিশনের অন্য সদস্যরাও রবিবার সকালের মধ্যেই রাঙামাটিতে এসে পৌঁছাবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার দেশে না থাকায় তাঁর প্রতিনিধিত্ব করবেন অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে বৈঠক সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও রাঙামাটি আসছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভূমি কমিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র দাবি করেছে, কমিশনের সভায় যোগ দিতে এবং কমিশনের কার্যক্রম বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতেই রাঙামাটি আসছেন ড. গওহর রিজভী।

এদিকে এই বৈঠকের বিরোধিতা করে রবিবার রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বাঙালিভিত্তিক সংগঠনগুলো। পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য বাঙালি শ্রমিক গণপরিষদ, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন এ হরতালের ডাক দেয়।

শনিবারও আইন সংশোধন এবং সভার বিরোধিতা করে কর্মসূচি পালন করেছে তিনটি বাঙালিভিত্তিক সংগঠন। সকালে রাঙামাটিতে পার্বত্য ভূমি রক্ষা আন্দোলন নামের একটি নতুন সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ও পার্বত্য বাঙালিদের ভূমির অধিকার রক্ষায় কাজ করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনীর প্রতিবাদে রবিবার তিন পার্বত্য জেলায় ডাকা হরতালে সমর্থন দেয়। এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, অ্যাডভোকেট আবছার আলী, জাহাঙ্গীর কামাল ও কাজী মো. জালোয়া বক্তব্য দেন।

এদিকে সকালেই শহরের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে পার্বত্য গণপরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ আলাদা আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে রবিবারের হরতালে সমর্থন ঘোষণা করে এবং পার্বত্য বাঙালিদের ভূমির অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ঘোষণা দেয়। এ সময় পার্বত্য গণপরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, মহাসচিব অ্যাডভোকেট আলম খান বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাহাড়ের ২৪ বছরের সশস্ত্র বিদ্রোহের আপাত অবসান ঘটিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার শান্তিবাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। কিন্তু বারবার কমিশনের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করেও কমিশনকে কার্যকর করা যাচ্ছিল না আঞ্চলিক পাহাড়ি দলগুলোর আপত্তির কারণে। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনী করে আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু বাঙালিভিত্তিক সংগঠনগুলো এ সংশোধনীর বিরোধিতা শুরু করে, তাদের দাবি, এই সংশোধনীর কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবে। এর প্রতিবাদে তারা দুই দিনের হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এরই অংশ হিসেবে আজ বৈঠকস্থল ঘেরাও ও হরতাল পালনের ঘোষণা দেয় বাঙালি সংগঠনগুলো।


মন্তব্য