kalerkantho


কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

৩৬ কোটি টাকার দরপত্রে ঘাপলা

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ৩০টি কলেজের ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণকাজের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের কারণে দরপত্রে সরকার প্রায় চার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সহায়তায় একটি চক্র কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্বত্র এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডার ম্যাথড) পদ্ধতি অনুসরণ করে ৫ শতাংশ কম দরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থাকতে হয় ঠিকাদারদের। এখানে ৫ শতাংশ কম বা বেশি দরে দরপত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী এলটিএম অনুসরণ না করে নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে ওটিএম (ওপেন টেন্ডার ম্যাথড) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন। শর্তের কারণে অনেক ঠিকাদার দরপত্র কেনা বা জমা দিতে পারেননি। এখানে ঠিকাদার ইচ্ছামতো কম দরে দরপত্র ফেলতে পারেন। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ থাকে বেশি। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করায় সরকার প্রায় চার কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

গত ১১ মে দরপত্র বাক্স খোলা হয়। এরপর কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বিলম্ব করা হয়। ঠিকাদারদের কোনো কিছু না জানিয়ে ৬ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গত ১৯ আগস্ট সাধারণ ঠিকাদাররা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুর রহমান উচ্চহারে কমিশন নিয়ে তাঁর পছন্দের ফরিদ উদ্দিনসহ তিন-চারজন ঠিকাদারের মধ্যে ওই সব কাজ দিচ্ছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী গোপনে বাক্সে দরপত্র ফেলার কাজে সহযোগিতা করেছেন। কেননা ওই ঠিকাদারদের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়ী শেয়ার (অংশ) রয়েছে। ঠিকাদাররা কার্যাদেশ বাতিল ও নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এর আগে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে স্কুল-কলেজে ভবন নির্মাণ এবং দ্বিতীয় তলা ঊর্ধ্বমুখীকরণ নির্মাণকাজে নিম্নমানের রড, সিমেন্ট, বালু ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার ফলে নির্মাণাধীন ওই ভবনগুলো এখন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এখন গুটি কয়েক ঠিকাদার বা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে উচ্চ দরদাতাকে কাজ দিচ্ছেন। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সব দরপত্র গোপন করে সিন্ডিকেটের লোকজন কাজ ভাগাভাগি করে নিয়ে থাকে। মিজানুর রহমান ছয় বছর ধরে একই কর্মস্থলে অবস্থান করে ওই সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে উঠেছেন। দুই-তিনবার বদলির আদেশ হলেও তিনি অর্থের জোরে তা বাতিল করেছেন। ’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি নিয়মমতো দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট। ’ একই কর্মস্থলে ছয় বছর ধরে অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ চাইলে আমাকে এখানে ২০ বছরও রাখতে পারে। ’


মন্তব্য