kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শ্রীবরদী সীমান্তে হাতির আক্রমণে কৃষক নিহত

শেরপুর প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার জুলগাঁও গ্রামে ধানক্ষেত পাহারা দেওয়ার সময় বন্য হাতির আক্রমণে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগের বালিঝুড়ি সদর বিটের কর্মকর্তা নুহুস চন্দ্র হাজং জানান, সীমান্তের গ্রামগুলোতে পাহাড়ি টিলার মধ্যবর্তী ধানক্ষেতে সদ্য রোপিত আমন ক্ষেতে বেশ কিছুদিন ধরে বন্য হাতির উৎপাত চলছে। হাতি তাড়াতে কৃষকরা ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ধানক্ষেতের একটি টংঘরে পাহারায় ছিলেন বক্তার মিয়ার (মৃত) ছেলে দুদু মিয়া (৫০)। একসময় ঘুমিয়ে পড়লে ভোর ৪টার দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ২৫-৩০টি হাতি ধানক্ষেতে আসে। দলের তিন-চারটি হাতি টংঘরটিতে হামলা চালিয়ে ভেঙে চুরমার করে। এ সময় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ঘুমন্ত কৃষক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাতির দল ক্ষেতের কচি ধান খেয়ে সাবাড় করে পাশের গহিন বনে চলে যায়। সকালে গ্রামের আরেক কৃষক ধানক্ষেতের কাছে গিয়ে বিধ্বস্ত টংঘর ও মৃতকে দেখতে পান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদা নাছরিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র (আইইউসিএন) শেরপুরের ব্যবস্থাপক রাজীব মাহমুদ বলেন, গত ২১ বছরে (১৯৯৫ সাল থেকে) বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে এ জেলায় প্রাণ গেছে ৪৪ জনের। সেই সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রাণ গেছে ১৮টি হাতির। হাতির আক্রমণে আহত হয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসল ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে গত আড়াই বছরে ১১ কৃষক ও ১১টি হাতি মরেছে। শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন্য হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগের সহায়তায় আইইউসিএন হাতি সুরক্ষা দল গঠন, জরিপ, চলাচল চিহ্নিতকরণ ও বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

বন বিভাগের মালাকুচা রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বন্য হাতির দল ঘটনাস্থলের কাছের পাহাড়ে অবস্থান করছে। রাতে আবারও লোকালয়ে নেমে আসতে পারে। এ আশঙ্কায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্য হাতির তাণ্ডব এখানকার পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দাদের জন্য একটা দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।


মন্তব্য