kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৯ দিন ধরে ফেরি বন্ধ

জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৯ দিন ধরে ফেরি বন্ধ

রাজবাড়ী সদরের জৌকুড়া ও পাবনা সদরের নাজিরগঞ্জ নৌপথে ৯ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এ কারণে সাড়ে চার ঘণ্টার পথ পেরোতে ১২০ কিলোমিটার ঘুরে সাত ঘণ্টা ব্যয় করছেন বাসযাত্রী ও ট্রাকচালকরা।

স্থানীয় সূূত্র জানায়, সম্প্রতি ভারত ফারাক্কা বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ায় পদ্মা নদীর রাজবাড়ী অংশে তীব্র স্রোত দেখা দেয়। এতে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পথ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগের সহজতম পথ হওয়ায় অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ বা ট্রলারে করে নদী পার হচ্ছে। যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে বিকল্প সড়কে।

জৌকুড়া ঘাটের ইজারাদারের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা জানান, জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী চিঠি দিয়ে জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। চিঠিতে নদীর স্রোত না কমা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। যে কারণে গত ২৫ আগস্ট সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘাটে ইউটিলিটি-৩৯ (একমাত্র সচল) ফেরিতে চারটি ট্রাক ও একটি বাসসহ অন্যান্য যানবাহন তোলা হয়। ফেরিটি জৌকুড়া থেকে নাজিরগঞ্জ ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিটি দুপুর ১টা পর্যন্ত মাঝনদী পার হতে ব্যর্থ হয়ে আবার জৌকুড়া ঘাটে ফিরে আসে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফেরিটি আর চালানোর চেষ্টা করা হয়নি।

সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান শরিফ জানান, রাজবাড়ী, ফরিদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের সহজতম নৌপথ জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ। এ কারণে প্রায় সব সময় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকে এখানে। সওজ বিভাগ এখানকার যাত্রী ও যানবাহনের কথা বিবেচনা করে ঘাট স্থাপন এবং দুটি ইউটিলিটি ফেরি বরাদ্দ করে। এ দিয়েই নৌপথটি সচল রাখা হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে সুগন্ধা ফেরিটি বিকল অবস্থায় রয়েছে। আর নদীর তীব্র স্রোতের কারণে চলাচলে ব্যর্থ হচ্ছে ইউটিলিটি-৩৯ ফেরি। জরুরি ভিত্তিতে এ নৌপথে ফেরি বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজবাড়ীর একতা পরিবহনের মালিক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘জৌকুড়া ফেরিঘাটের মাধ্যমে আমাদের পরিবহনটি প্রতিদিন রাজবাড়ী-বগুড়া যাতায়াত করে। এখন ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফেরি বাড়ানোর পাশাপাশি এ ঘাটটি সওজকে দিয়ে নয়, বিআইডাব্লিউটিসিকে (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ সংস্থা) দিয়ে পরিচালনা করা প্রয়োজন। ’

রাজবাড়ী সওজ বিভাগের জৌকুড়া ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা নুরুল কবির বলেন, ‘স্রোতের তীব্রতা কমলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। ’


মন্তব্য