kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মনোহরগঞ্জে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে যুবলীগকর্মী আহসান উল্লাহ হিতুকে (৩২) শাবল দিয়ে কুপিয়ে ও টেঁটাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাশই পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন দোকানের সামনে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘাতকরা।

পরে রাতে পাশের লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হিতু কাশই গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। কাদ্রা বাজারে হিতুর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ হত্যার ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হিতুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন সাতজনকে আটক করেছে পুুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিক মামলার আসামির সংখ্যা ও নাম-পরিচয় দিতে রাজি হননি মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো.সামছুজ্জামান।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাশই গ্রামের ফল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয়। ওই বিয়ের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে রাস্তায় চলাচলের সময় যুবলীগকর্মী হিতুর সঙ্গে পাশের বাড়ির মোরশেদ আলম ও আরিফ হোসেনের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় মাতব্বররা বসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে মোরশেদ ও আরিফ ফল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছোট ভাই মনাকে একা পেয়ে কাশই পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন দোকানের সামনে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন মনাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে যুবলীগকর্মী হিতু তাঁর দোকান থেকে গ্রামে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন। এ সময় হিতু দোকানের সামনে গিয়ে মোরশেদ ও আরিফের কাছে মনাকে মারার কারণ জানতে চান। এ সময় মোরশেদ, আরিফসহ ৮-১০ জনের একটি দল প্রথমে হিতুকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করে। এরপর শাবল দিয়ে হিতুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে হিতু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিয়েবাড়ির ওই তুচ্ছ ঘটনাটি অনেক আগেই স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছিল। তার পরও সামান্য এ ঘটনা নিয়ে হিতুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেওয়ান মো. জসিম উদ্দিন জানান, হিতু যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সামনের ইউনিয়ন কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতেন। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো. সামছুজ্জামান বলেন, পুলিশ হিতুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মন্তব্য