kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাউখালীর আমড়া যাচ্ছে সারা দেশে

এবার ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০




কাউখালীর আমড়া যাচ্ছে সারা দেশে

এভাবেই বস্তায় ভরে পিরোজপুরের কাউখালী থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় আমড়া। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আমড়া পছন্দ করে না এমন মানুষের দেখা মেলা ভার। সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও অর্থকরী এই ফলের চাহিদা ব্যাপক।

বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় আমড়া। ফলে এর চাষও গেছে বেড়ে। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার চাষ হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল আমড়ার এখন ভরা ঋতু। এবার কাউখালীতে আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে চাষিরা।

প্রতিবছর কাউখালীর মোকাম থেকে শত শত টন আমড়া চালান হয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফলে কাউখালীতে গড়ে উঠেছে আমড়ার বাণিজ্যিক বাজার।

কাউখালীতে এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না, যেখানে দু-চারটি আমড়া গাছ নেই। ছোট-বড় সড়কের পাশে, গ্রামের বসতবাড়ির আশপাশে আমড়া গাছের দেখা মেলে। অনেকেই পতিত ও ফসলি জমিতে কান্দি বেড় (নালা) কেটে আমড়া চাষ করছে। কোনো কোনো চাষির বাগান থেকে বছরে (তিন মাস) লাখ লাখ টাকা আয় হয়। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পাওয়া যায় পরিপক্ব আমড়া।

কাউখালীতে আমড়া কেনাবেচার বাজার তৈরি হয়েছে কয়েক যুগ ধরে। বেপারিরা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কুঁড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে আমড়া বাগান কিনে ফেলে। আবার অনেক চাষি নিজেরাই ভরা ঋতুতে বিক্রি করে। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে আড়তে বিক্রি করা হয়। বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে কাউখালীতে আমড়া আবাদ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

কাউখালী উপজেলার প্রধান বন্দর লঞ্চঘাট, দক্ষিণ বাজার, চৌরাস্তা পাঙ্গাশিয়াসহ বিভিন্ন বড় বাজারে রয়েছে অসংখ্য আমড়ার আড়ত। এসব আড়তে বেপারিদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মেঘনাঘাটসহ দেশের নানা স্থানে চালান করা হয়। সেখানকার আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে। পরে খুচরা বিক্রেতা ও হকার হয়ে আমড়া পৌঁছে যায় সাধারণ ক্রেতার কাছে।

কাউখালীর শিয়ালকাঠি গ্রামের আমড়া চাষি মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বেপারিরা চাষিদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৮০০ টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায়।

কাউখালী শহরের উত্তর বন্দরের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রতিবছর শত শত টন আমড়া কাউখালী থেকে চালান হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। একটি আড়ত থেকে ঢাকা, চাঁদপুর বা মুন্সীগঞ্জে এক বস্তা আমড়া পৌঁছাতে খরচ হয় ২১০ থেকে ২১৫ টাকা। এরপর আড়তে বেচা দামের শতকরা ১০ শতাংশ আড়তদারি দিতে হয়। প্রতিটি বস্তায় এক হাজার ৫০০ আমড়া ভরা হয়। বর্তমানে কাউখালীতে এক বস্তা আমড়ার দাম এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। ঢাকায় বিক্রি হয় এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, আমড়া গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কাউখালীতে কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। আমড়ার বাগান বা চাষ করা খুবই সহজ। রোদেলা স্থানে উঁচু আইল করে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের তিন-চার বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। আমড়া লাভজনক ফল বলে এদিকে চাষিদের নজর বেশি। রোগবালাইও কম। তবে চারা রোপণের সময় গর্তে কিছু দানাদার কীটনাশক দিলে ‘গাছমরা’ রোগ হয় না। কাউখালীসহ পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

অপূর্ব লাল সরকার জানান, আমড়ার চারা লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা এবং ফলন বৃদ্ধি ও রোগবালাই দমনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের পরামর্শ দিয়ে থাকে।


মন্তব্য