kalerkantho


প্রাপ্তবয়স্ক জন্ম সনদে স্কুল ছাত্রীর বিয়ে!

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাঁশখালীতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক জন্ম সনদে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। ওই সনদে মেয়েটির বয়স সাড়ে পাঁচ বছর বেশি দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের মৃত রফিক আহমদের প্রবাসী ছেলে মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের ওই স্কুল ছাত্রীর বিয়ে হয়। এ ক্ষেত্রে মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় স্থানীয় বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ওই জন্ম সনদ সংগ্রহ করা হয়। সনদে জন্ম তারিখ ১৯৯৭ সালের ১৫ মে উল্লেখ করা হয়। সে অনুযায়ী বিয়ের দিন তার বয়স দাঁড়ায় ১৯ বছর ছয় মাস ১৫ দিন। গত সোমবার বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য কাজী মো. আবুল কাশেমকে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু স্কুল ছাত্রীর পরিচয় জানার পর ওই বিয়ে না পড়িয়ে তিনি ফিরে যান। পরে পাশের এলাকা কাথারিয়া ইউনিয়নের কাজি মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে এনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দাশ বলেন, ‘মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এর বেশি কিছু বলতে বারণ আছে। গ্রামের প্রভাবশালীদের চাপে আমি প্রশাসনকেও বিষয়টি জানাতে পারছি না। ’ বাহারছড়া ইউনিয়নের কাজি মো. কাশেম বলেন, ‘মেয়েটির বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরে আমি নিকাহ রেজিস্ট্রি করিনি। ’

কাথারিয়া ইউনিয়নের কাজি মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের দেওয়া জন্ম সনদ দেখে নিকাহ রেজিস্ট্রি করেছি। মেয়েটি স্কুল ছাত্রী জানলে এ নিকাহ রেজিস্ট্রি করতাম না। ’

বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হলেও বিবাহযোগ্য হওয়ায় অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্তবয়স্ক জন্ম সনদ দিয়েছি। বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে হওয়া তো স্বাভাবিক ঘটনা। মেয়ের বিয়ে হওয়ার জন্য জন্ম সনদ দিয়েছি, ক্ষতি করার জন্য দিইনি। ’


মন্তব্য