kalerkantho


চকরিয়ায় ছয়টি চিংড়ি ঘেরে হামলা লুটপাট

শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি, আহত ৫

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২০০ একরের ছয়টি চিংড়িঘেরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তাণ্ডব ও লুটতরাজ চালিয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি ও মারধরে ঘেরের পাঁচজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওই তাণ্ডব শুরুর আগে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তাতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকরা অভিযোগ করেছেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার নতুন অফিস এলাকার মো. হোছেন ও ছৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বুধবার রাত ১টার দিকে খুটাখালী চিংড়িজোনে হামলা চালায়। এ সময় ঘের কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি এবং অন্তত শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে গুলি করে এবং পিটিয়ে আহত করা হয় ঘেরের পাঁচজন কর্মচারীকে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চিংড়িঘের কেরানীঘোনার অংশীদার খুটাখালীর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, অন্তত ৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী একযোগে ছয়টি চিংড়িঘেরে হানা দেয়। ঘেরের কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালানো হয়। এ সময় চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, মাছ ধরার ২০টি ঝাঁকি জাল, সোলার প্যানেল, কয়েক মণ চাল, কর্মচারীদের মোবাইল ফোনসেটসহ অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুটে নেয় তারা। রাত ১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চালানো ওই হামলা-লুটপাটের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এর আগে গত রবিবার ভোরেও ঘেরগুলোতে তাণ্ডব চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছসহ মালামাল নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ঘের মালিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্যাস বিতানে হামলা, লুট : এদিকে শত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ১৭০টি গ্যাস সিলিন্ডার, দুই ড্রাম অকটেন, আট ড্রাম ডিজেল, ২০টি গ্যাসের চুলা, নগদ টাকাসহ অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় তারা। বাধা দিতে গেলে তাদের হামলায় দোকান মালিক আহত হন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা এলাকার ভাই ভাই গ্যাস বিতানে ওই ঘটনা ঘটে।

দোকান মালিক তৌহিদুল ইসলামের ভাই সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শত্রুতার জের ধরে সাহারবিল ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার এনামুল হকের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে ইউপি সদস্য অভিযুক্ত এনামুল হক দাবি করেন, জমি নিয়ে তাঁর সঙ্গে তৌহিদদের বিরোধ চলছিল। তাঁকে ফাঁসাতেই এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিসে বসেছেন।


মন্তব্য