kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এত ওজন সইতে পারছে না সড়ক

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এত ওজন সইতে পারছে না সড়ক

সড়কের ধারণক্ষমতা ১৫ টন। সেখানে মালসহ ছয় চাকার ট্রাক বহন করছে ২২ টন।

এত ওজন সইতে পারছে না ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এ কারণে বারবার দেবে যাচ্ছে। গত দুই মাসে একাধিকবার মেরামত করেও ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

এর মধ্যে আট দিন আগে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকামুখী গাড়ির ওজন নির্ণায়ক যন্ত্র (এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্কেল) ভেঙে ফেলেছে। এর পর থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। ঢাকামুখী গাড়িগুলো চলছে স্বাধীনভাবে। আর চট্টগ্রামমুখী যন্ত্রটি পরিবহন শ্রমিকদের দাবির মুখে ২০ টন পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। এই মহাসড়কে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দারোগারহাটে ওজন কেন্দ্র সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মহাসড়কের চারলেন সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তৈরি সড়ক ও সেতুর ধারণক্ষমতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক অরুণ আলো চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট নকশায় মহাসড়ক ও সেতুগুলো তৈরি হয়েছে। যানবাহনের এক্সেলের সংখ্যার ওপর সড়ক ও সেতুর ওজন সক্ষমতার বিষয়টি নির্ভর করে। দুই এক্সেল (ছয় চাকা) বিশিষ্ট গাড়ি হলে ১৫ টন পর্যন্ত ওজন সড়কের ক্ষতি করে না। এর বেশি ওজন নিলে সড়ক দেবে যায়। ’

ওজন নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান র‌্যাগনাম রিসোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জনি বলেন, ‘ছয় চাকার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ২০-২২ টন পর্যন্ত ওজন বহন করে। ১৪ চাকার গাড়ি ৩৩ টনের স্থলে ৪০ টন পর্যন্ত ওজন বহন করে। মোটামুটি সব ধরনের গাড়ি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজন বহন করে। ’

সড়ক সূত্র জানায়, দারোগারহাটে ওজন যন্ত্র স্থাপনের পর থেকে সরকারি নিয়ম ছিল অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহনকে সড়ক পারাপারে অনুমতি দেওয়া হবে না। গাড়িকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ নিয়ম কার্যকর করতে পারছিল না কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নিয়ম পাল্টে ফেলে। মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে অতিরিক্ত ওজনবাহী গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানার হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন ওজন নির্ণয় কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

গত ২৩ আগস্ট  রাতে নতুন নিয়মে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় শ্রমিকরা। এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওজন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা ঢাকামুখী ওজন কেন্দ্রে ভাঙচুর চালায় ও আগুন লাগায়। এতে যন্ত্রটি পুড়ে যায়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ পরিবহন শ্রমিককে আসামি করে সড়ক ও জনপথের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক কাদেরি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয় এক কোটি টাকারও বেশি। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘কবে নাগাদ এটি চালু করা যাবে, তা বলা যাচ্ছে না। বিদেশ থেকে যন্ত্র আমদানি করতে হবে। ’

এর আগে গত ২৮ জুলাই মোটরযান অধ্যাদেশ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৭টি পণ্যবাহী গাড়ির ওজন পরীক্ষা করে আইনি ব্যবস্থা নিলে শ্রমিকরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আব্দুর রহীম বক্স দুদু বলেন, ‘আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সচিব পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। আমাদের ৯টি দাবির মধ্যে রয়েছে ওজনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা সংশোধন, ওজন কেন্দ্রের ইজারা বাতিল, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র অপসারণ, পাঁচ-ছয় কিলোমিটার বাইপাস সড়ক ও পৃথক লেন নির্মাণ, কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি চালু, ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ৪০০ পরিবহন শ্রমিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও নির্ধারিত ওজনের ২৫ শতাংশ বেশি মালামাল পরিবহনের সুবিধা দেওয়া। ’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. গোলাম নবী বলেন, ‘দারোগারহাটের ওজন পরিমাপ যন্ত্রগুলো ত্রুটিপূর্ণ। এগুলোতে একেকবার একেক ধরনের ওজন ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো অপসারণ করা দরকার। ’

এ বিষয়ে র‌্যাগনাম রিসোর্স লিমিটিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনি বলেন, ‘এটি যন্ত্রের ত্রুটি নয়। অনেক ক্ষেত্রে চালকরা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে যন্ত্রের ওপর ব্রেক কষে। এতে ওজনের হেরফের হয়। ’

সওজ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘গত ২৯ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে যানবাহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ছয় চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ২০ টন পর্যন্ত মাল পরিবহনের দাবি ওঠে। মূলত পরিবহন নেতাদের আপাতত শান্ত রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত মৌখিকভাবে নির্দেশিত এ নিয়মটি চালু থাকবে। ঢাকামুখী যন্ত্রটি চালু হলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। ’


মন্তব্য