kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নাটোরে বাবা ও সৎমায়ের ফাঁসি

বগুড়া ও ময়মনসিংহে দুজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও বগুড়া/নাটোর প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নাটোরের বড়াইগ্রামে আট বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে বাবা ইমদাদুল হক মিলন ও সৎমা নাহিদা বেগমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজাউল করিম এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র ও নাটোর জজকোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে ইমদাদুল হক মিলন তাঁর প্রথম স্ত্রী কুলসুমা বেগমকে তালাক দিয়ে শিশুপুত্র ইয়াসির আরাফাত ইমনকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদার সঙ্গে বড়াইগ্রামের কামারদহ গ্রামে বাস করতেন। গত বছরের ২৭ আগস্ট ইমনের মা লোকমুখে জানতে পারেন তাঁর ছেলে মারা গেছে। তিনি আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ইমদাদুল হক মিলনের বাড়িতে যান। এ সময় মা কুলসুমা বেগম তাঁর সাবেক স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিছানার ওপর শিশুপুত্র ইমনের লাশ দেখতে পান। ইমনের গলায় কালসিটে দাগ এবং প্যান্ট ভেজা ছিল।   পরে তিনি বাদী হয়ে ইমনের বাবা ইমদাদুল হক মিলন ও সত্মা নাহিদা বেগমকে অভিযুক্ত করে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ দুজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। পরে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিচারক ইমনের বাবা ও সত্মাকে ফাঁসির আদেশ দেন। রায়ের সময় ইমনের বাবা ইমদাদুল হক মিলন উপস্থিত থাকলেও পলাতক রয়েছেন সত্মা নাহিদা বেগম।

এদিকে বগুড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ সিয়ামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার অভিযোগে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক হাফিজুর রহমান বুধবার বিকেলে এই রায় দেন। সিয়াম বগুড়া সদরের পুরান বগুড়া এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক বেল্লাল রহমানের ছেলে।

ঘটনার বর্ণনা করে আদালতে সিয়ামের বাবা বেল্লাল রহমান জানান, ২০১৪ সালের ১৭ মে বাসার সামনে তাঁর ছেলে সিয়াম খেলছিল। এ সময় তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর ওই রাতেই অপহরণকারী যুবক মোবাইল ফোনে জানায় সিয়ামকে অপহরণ করা হয়েছে। তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করা হবে। এরপর ৮০ হাজার টাকা দফারফা করে টাকা পরিশোধ করা হলেও সিয়ামকে ফেরত দেওয়া হয়নি। সরকার পক্ষের আইনজীবী খায়রুল বাশার নিলুজ জানান, বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১-এর বিচারক সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সিয়ামকে হত্যা, মুক্তিপণ দাবি, অপহরণ ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে চারটি ধারায় সাজা দেন। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্য ফাঁসির আদেশ, মুক্তিপণ দাবির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অপহরণ করার জন্য ১০ বছর কারাদণ্ড ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে আরো তিন বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন তিনি। পাশাপাশি আসামি পক্ষ সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল না করলে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে বিচারক মোহাম্মদ আমির উদ্দিন এ রায় দেন।


মন্তব্য