kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিশোরগঞ্জ আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

নিরাপত্তা জোরদার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যালয় বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় শহর ও আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

তল্লাশি ছাড়া কাউকে আদালত চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল বুধবার শহর ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

জানা গেছে, জেলা জজ মো. মাহবুব-উল ইসলামকে গত মঙ্গলবার চিঠির মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর নামে আসা একটি চিঠি খুলে তিনি হুমকির বিষয়টি জানতে পারেন। চিঠির খামের ওপরে প্রেরকের জায়গায় ‘কালা মিয়া, মনিপুরঘাট, বত্রিশ, কিশোরগঞ্জ’ লেখা ছিল। চিঠিতে জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা ‘আনোয়ার হোসেনের রিমান্ড বাতিল ও সাত দিনের মধ্যে শোলাকিয়ার ঘটনায় আটক সব ইসলামী নেতাকে মুক্তি দাও, অন্যথায় তোমার কার্যালয়ে বোমা ফোটানো হবে’ এমন বক্তব্য লেখা রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ওই চিঠিটি গত সোমবার জজ কোর্টে এসে পৌঁছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিঠি খোলার পর হুমকির বিষয়টি নজরে আসে। কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জেল সুপার ও পিপিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন জেলা জজ মাহবুব-উল-ইসলাম। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় জেলা জজ আদালতের নাজির মো সেলিম চৌধুরী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধুরী জানান, জেলা জজকে হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। চিঠিতে যে প্রেরকের নাম উল্লেখ আছে, সেটি সঠিক না ভুয়া তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আর জেলা জজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোসহ জেলা জজ আদালত ও এর ক্যাম্পাসসহ আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ, এক জঙ্গি ও এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ওরফে শরিফুল নামের এক জঙ্গিকে। পরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গত ৪ আগস্ট নিহত হয় শফিউল।


মন্তব্য