kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাউণ্ডুলে আরিফ এলাকাছাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এবার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বখাটে আরিফুল ইসলাম। ময়মনসিংহের গৌরীপুর সদরের কোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও এ পর্যন্ত তার দিকে আঙুল তোলার সাহস কেউ দেখায়নি।

তবে সূত্র মতে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাশিমের ছেলে আরিফুলের রয়েছে বেশ কয়েকজন বন্ধু। তারা সবাই এলাকায় কোন্দল, মারামারি, পথেঘাটে মেয়েদের হয়রানি, অভিভাবকদের হুমকি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এদের আশ্রয়দাতা বলে অভিযোগ রয়েছে। আশ্রয়দাতারা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করতেও সাহস পায় না। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুল এলাকা থেকে কৌশলে দূরে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় তারা। টের পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে আরিফুল গ্রাম ছেড়ে পালায়।

এ ব্যাপারে শিশুটির মা বলেন, তাঁরা গরিব মানুষ। ওই ছেলের বিরুদ্ধে কিছু করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এদিকে কোনাপাড়া গ্রামের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, কয়েক বছর আগে কোনাপাড়া গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকেও পথে আটকানোর চেষ্টা করেছিল আরিফুল ও তার বন্ধুরা। সেই মেয়েটি পরে দৌড়ে এক বাড়িতে গিয়ে রক্ষা পায়। তখন গ্রামের লোকজন বখাটেপনার শাস্তি হিসেবে আরিফুল ও তার সাত বন্ধুকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরায়। বখাটেপনার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সেই আরিফুল গত ঈদের আগে গ্রামের জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে বাড়িতে এসে মারধর করে।

এ ব্যাপারে ঘটনার শিকার জজ মিয়া বলেন, ‘নীরবে সব কিছু সহ্য করতে হচ্ছে। কিছু বলতে গেলেই বিপদ বাড়বে। তাই চুপ থাকাই ভালো। ’

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী ও ইউপি সদস্য এখলাস উদ্দিন নয়ন নানাভাবে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন আরিফুলকে। আরিফুল গত ইউপি নির্বাচনে এঁদের পক্ষে কাজ করার কারণেই মূলত এই পুরস্কার।

ইউপি সদস্য এখলাস উদ্দিন নয়ন বলেন, আরিফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কিন্তু তিনি কোনো অভিযোগের প্রমাণ পান না। একই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে হযরত আলী ফোন ধরেননি।

আরিফুলের বখাটেপনার সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরীন সুলতানাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আরিফুলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার বড় ভাই জুয়েল মিয়া জানান, তাঁর ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এখন নিরুদ্দেশ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন জানান, স্কুলে কোনো ঘটনা ঘটেনি। তা ছাড়া এ বিষয়ে তাঁকে কেউ কিছু জানায়নি। গৌরীপুর থানার ওসি আবু মো. ফজলুল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য