kalerkantho

26th march banner

জলে ভাসছে নারায়ণগঞ্জ

ডিএনডি বাঁধের প্রভাব

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ সদরের ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশের ডিএনডি বাঁধের ভেতরের নিম্নাঞ্চল এলাকা। এসব এলাকার বেশির ভাগ বাড়ির রান্নাঘর, টয়লেট ও ঘরের মেঝে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কের কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি। এ কারণে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধের (ডিএনডি) প্রভাবেই এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে রয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কেও বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাঁধের ভেতর ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকার বিশেষ করে ফতুল্লার রামারবাগ, সস্তাপুর, গাবতলা, কায়েমপুর, চাঁদমারী, ইসলামবাগ, শহীদ নগর, মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, এনায়েত নগর, তলা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভুঁইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুব আইল, নয়াআটি, লামাপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি, হাজীগঞ্জ, গোপটা, গোদনাইল, ধনকুণ্ডা ও জালকুড়ির নিম্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

এ বিষয়ে এলাকার দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁদের এলাকাটি ডিএনডি বাঁধের ভেতরে। কিন্তু এলাকাটি নিম্নাঞ্চল হওয়ার কারণে বৃষ্টিতেই ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে  গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, ডিএনডির পানি নিষ্কাশনে যে খাল রয়েছে, সেটি বেদখল হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে খালের ওপর মাচা দিয়ে ও বালু ভরাট করে আধা পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, মিল-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যাংক, বীমা, স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করতে গিয়ে যে যেভাবে পেরেছে ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল করে নিয়েছে। ওই খালগুলো দিয়ে ডিএনডির ভেতর জমে থাকা অতিরিক্ত পানি শিমরাইলস্থ পাম্প হাউসের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে ডিএনডি কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের অতি বৃষ্টিতে জালকুড়ি নাইনতারপাড়া ও উত্তরপাড়া এলাকায় ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ধান ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতসহ মাছের খামার তলিয়ে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

রাসেল শেখ নামে এক মত্স্য খামারের মালিক জানান, তাঁর দুটি মাছের খামার ডিএনডির বিষাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার মাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডিএনডি পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অতিদ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। অল্প সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবে বলে আমি আশা করি। ’


মন্তব্য