kalerkantho


‘ডাকাত’ ছাড়িয়ে নিতে চেয়ারম্যানের তদবির

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ঝালকাঠিতে ডাকাত সন্দেহে গ্রেপ্তার এক যুবককে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তদবির করেছেন। শুক্রবার রাতে নলছিটি উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে ডাকাত সন্দেহে রুবেল খান নামের ওই যুবকসহ চারজনকে আটক করে এলাকাবাসী। স্থানীয় চেয়ারম্যানের দাবি, ওই চারজন নির্দোষ, এলাকাবাসী ভুল বুঝে তাদের ধরেছে।

নলবুনিয়া গ্রামে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শুক্রবারের ঘটনা সম্পর্কে গ্রামবাসী জানান, রাত ৮টার দিকে নলবুনিয়া বাজার এলাকায় অপরিচিত চার যুবক ঘোরাফেরা করছিল। গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন তাদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। কথা বলার একপর্যায়ে চার যুবক দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর স্থানীয়রা ডাকাত পড়েছে বলে চিত্কার শুরু করলে লোকজন বেরিয়ে আসে। চারদিক থেকে ঘিরে চার যুবককে আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাদের মারধরও করে।

খবর পেয়ে সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান সিকদার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি চার যুবককে নিজের পরিচিত দাবি করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এলাকাবাসী জানায়, তারা ওই তিন যুবকের নাম-পরিচয় জানতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুবেল নামের আরেক যুবককেও চেয়ারম্যান ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রুবেলকে থানায় নিয়ে যায়। রুবেল পূর্ব সুবিদপুর গ্রামের আবদুল খালেক খানের ছেলে। তাকে থানায় নিয়ে গেলে মান্নান সিকদারও লোকজন নিয়ে থানায় যান। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে রাত ১১টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। নলছিটি থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘রুবেল খানকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির হয়েছে ঠিকই, তবে তাকে ছাড়া হয়নি। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আজ (শনিবার) ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। ’


মন্তব্য