kalerkantho


দুর্গে একা ইসমাইল খোয়ালেন জামানত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



জয়পুরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছয়টি এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা। আর একটিতে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। বিএনপি মনোনীত একমাত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির দাবি, প্রার্থী হওয়া তো দূরের কথা, নেতাকর্মীকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচন। এর মধ্যে ভাদসা, জামালপুর ও চক বরকত ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। ভাদসা ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জামালপুর ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাসানুজ্জামান মিঠু ও চক বরকত ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন বেসরকারিভাবে তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমকি-ধমকি ও মামলা-হামলার ভয়ে ৯টির মধ্যে আটটিতে বিএনপির কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেননি। ভাদসা ইউপিতে বিএনপির একমাত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পেয়েছেন দুই হাজার ৬০৭ ভোট। ওই ইউপিতে ভোটার ২১ হাজার ৫৭৭ জন। নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী ইসমাইল হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকে দুই হাজার ৬৯৮ ভোট পড়লে তাঁর জামানত রক্ষা পেত। ওই ইউপিতে নৌকা প্রতীকে আট হাজার ৫০ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৯৩ ভোট। বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইসমাইল হোসেনের জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব।

দলীয় সূত্র জানায়, আশির দশকের পর থেকে জয়পুরহাট জেলায় নির্বাচিত বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন ব্যতীত)। তৃণমূলের নির্বাচনেও ছিল বিএনপির আধিক্য। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদরসহ তিনটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপির। এ ছাড়া আগের ইউপি নির্বাচনে জয়পুরহাট সদর উপজেলার ৯টির মধ্যে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলেন মাত্র দুজন। অন্যরা বিএনপি ও অন্য দলের। অথচ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেছে, শুরু থেকে তাদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর চাপ ছিল। জামালপুর ইউপির দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রকাশ্যে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। পরে তারা মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধা দিতে পাহারা বসায়। একইভাবে ধলাহার ইউপির চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেনকে হুমকি-ধমকি ও বিভিন্নভাবে হামলা-মামলার ভয় দেখায়। চক বরকত, আমদই ও বম্বু ইউপিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেও কৌশলে বিএনপির প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এসব কারণ ও ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচনে নিজেদের গুটিয়ে রাখে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধান বলেন, ‘জয়পুরহাট জেলা এখনো বিএনপির জন্য উর্বর। সরকারি দলের হুমকি-ধমকি ও মামলা-হামলা থেকে বাঁচতে বিএনপির নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় আছে। এর মানে এই না যে জয়পুরহাট বিএনপিশূন্য হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই বলা যেত আওয়ামী লীগ নেতাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু। ’

জয়পুরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দোগাছি ইউপির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘হুমকি-ধমকি বা ভয়ভীতি দেখে না, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে নৌকার প্রতি মানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অতীতের ভুল ভেঙে জয়পুরহাটের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এ জেলার মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে এখন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া শুরু হয়েছে। ’

 


মন্তব্য