kalerkantho

26th march banner

বরগুনায় হত্যা মামলা ঢাকতে মিথ্যা অপবাদ

গৃহবধূকে পেটালেন জনপ্রতিনিধি

বরগুনা প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



মিথ্যা অপবাদে বরগুনার তালতলীর এক গৃহবধূকে পিটিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দার। গুরুতর আহত ওই নারীর এখন চিকিৎসা চলছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।

গৃহবধূটি জানান, ছোট বোন হত্যা মামলা মিটমাট করে ফেলার জন্য গত ২৪ মার্চ আসামিপক্ষের উকিলের মুহুরি জাকির তালতলীর জয়ালভাঙ্গা গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে তালতলী বাজার থেকে স্বামীর ঠিক করে দেওয়া পরিচিত একটি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে বোনের বাড়ি যান তিনি। সেখানে আরেক বোন (মামলার বাদী) ও অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিল। আসামিপক্ষ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা মিটমাট করার প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বাদীপক্ষ। বিষয়টি জাকির মুহুরি জানিয়ে দিলে খেপে যায় আসামিরা। সন্ধ্যার পর বোনের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফিরছিলেন ওই নারী ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে। পথে হত্যা মামলার আসামি মালেক প্যাদা ও রফিক জমাদ্দার মোটরসাইকেল থেকে তাঁদের নামান। তাঁরা তাঁকে ও চালক ওয়াহাব মিয়াকে ধরে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তাঁদের চাচা শফিক জমাদ্দারের বাড়িতে। সেখানে তাঁদের রাতভর আটকে রেখে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে পেটান শফিকসহ হত্যা মামলার অন্য আসামিরা।

ইউপি সদস্য শফিকসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অভিযুক্ত করে গত বৃহস্পতিবার বরগুনার আমতলীর আদালতে অভিযোগ করেন ওই নারী। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তা শুনানির জন্য আগামী ২১ এপ্রিল ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ মার্চ বরগুনা শহরের একটি ঘরে বন্দি করে আট বছরের মেয়ের সামনে গৃহবধূ রেহেনা বেগমকে খুন করেন দেবর জয়নাল প্যাদা, তাঁর ভাই মালেক প্যাদা, মামাতো ভাই সাহেব আলী ও খালাতো ভাই মোস্তফা জমাদ্দার। একে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান তাঁরা। পরে প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিশুর জবানবন্দি ও স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। সে সময় প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিশুর লালনপালনের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এখন পরিষদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে শিশুটি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরগুনার সভানেত্রী নাজমা বেগম বলেন, ‘রেহেনা হত্যাকাণ্ডের আট বছর চলছে। আজও আসামিদের কিছুই হলো না। মাঝখান থেকে এক বোন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আর অন্য বোন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে আমি পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মামলার খোঁজ নিয়ে করণীয় বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানিয়েছেন। ’

 


মন্তব্য