kalerkantho


জামায়াতকে দুষছে বিএনপি

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



নীলফামারী সদরের দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ভরাডুবি ঘটেছে। এমন ভরাডুবিতে বিএনপি দুষছে জোটের শরিক জামায়াতকে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘জামায়াত নিজেরা প্রার্থী দিতে পারেনি, তারা বিএনপির প্রার্থীকে সহযোগিতা না করে নৌকায় ভোট দিয়েছে। ’ অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বলছেন, ‘বিএনপির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ’ তবে বিএনপির অনেকে মনে করেন, ‘মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। ’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে, তারা পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী  দিতে পারেনি। তারা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন না করে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে। ’

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর সেলিম ফারুক বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমার কারণে অনেকে জেলে আছেন, আবার অনেকে ভয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারেননি। এ কারণে বিপর্যয় হয়েছে। ’

বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির আল ফারুক বলেন, ‘এমন অভিযোগ তারা করলে করতেই পারে। কিন্তু অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটা স্থানীয়  নির্বাচন, যেখানে আমাদের প্রার্থী নেই, সেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। তবে কে কোথায় ভোট দিয়েছে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। ’ তিনি বলেন, ‘কারো আত্মীয় যদি নৌকা প্রতীক নিয়ে  নির্বাচন করে, সে ক্ষেত্রে সে তাকে ভোট দিতেই পারে। ’

 ভোট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী একটিতে দ্বিতীয়, একটিতে তৃতীয় ও বাকি তিনটিতে রয়েছে তলানিতে।

পলাশবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির জগদীশ চন্দ্র রায় তিন হাজার ১৯০ ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন। সেখানে চার হাজার ৬১৩ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মমতাজ আলী প্রামাণিক। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইব্রাহিম তালুকদার (আনারস) তিন হাজার ১০৩ ভোটে তৃতীয়, ওয়ার্কার্স পাটির তপন কুমার রায় ৯১৩ ভোটে চতুর্থ এবং জাতীয় পাটির চঞ্চল চ্যাটার্জি ৬০৭ ভোটে পঞ্চম হয়েছেন। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

 গোড়গ্রাম ইউনিয়নে চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির আমিনুজ্জামান চার হাজার ১১৪ ভোটে তৃতীয় অবস্থানে। সেখানে ছয় হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী  রেয়াজুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান (মোটরসাইকেল) পাঁচ হাজার ১৪৫ ভোটে পেয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ হোসেন (আনারস) পেয়েছেন ৩২৪ ভোট। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম এক হাজার ১৩৩ ভোটে সর্বশেষ অবস্থানে। সেখানে পাঁচ হাজার ৪৩০ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেন (আনারস)। আওয়ামী লীগের প্রার্থী  জুলফিকার আলী তিন হাজার ৯৯৬ ভোটে দ্বিতীয়, আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী আবুল খায়ের তিন হাজার ৫৮০ ভোটে তৃতীয়, এক হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মমতাজুল ইসলাম (টেলিফোন) চতুর্থ হয়েছেন। ওই ইউনিয়নে ভোট পড়েছে প্রায় ৮৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

জামায়াত অধ্যুষিত বলে পরিচিত পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ৮৫৭ ভোটে বিএনপির রফিকুল ইসলামের অবস্থান সবার শেষে। সেখানে চার হাজার ৩৬৩  ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হবিবর রহমান। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নাজমুল হক (আনারস) দুই হাজার ৭৪২ ভোটে দ্বিতীয়, আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী ওয়াহেদুর  (মোটরসাইকেল) দুই হাজার ২৪৩ ভোটে তৃতীয়, স্বতন্ত্র প্রাথী নূরুল আমিন (টেলিফোন) এক হাজার ৮৯০ ভোটে চতুর্থ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মশিউর রহমান প্রামাণিক (চশমা) এক হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে। ভোট পড়েছে ৮৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আশরাফ হোসেন এক হাজার ১৪ ভোট পেয়ে অবস্থান সবার শেষে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান (আনারস) পাঁচ হাজার ৮৯ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শ্যাম চরণ রায় তিন হাজার ৯৫৯ ভোটে দ্বিতীয় এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা এক হাজার ৬৩৭ ভোটে তৃতীয় অবস্থানে। ওই ইউনিয়নে ভোট পড়েছে ৮৯ শতাংশ।


মন্তব্য