kalerkantho


শাল্লার কাশিপুর হাওর রক্ষা বাঁধ

কাজ শুরু করেনি পাউবো

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



এখনো সুনামগঞ্জের শাল্লার কাশিপুর হাওরের (গিলটি হাওর) নয়াহাটি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কবে কাজ শুরু হবে তাও বলতে পারছেন না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। গত ১৫ ডিসেম্বর ওই বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করার কথা ছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের তিন মাস সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বাঁধটি আগের মতোই রয়ে গেছে।

সরেজমিন শাল্লা-দিরাই নির্মিতব্য সড়কের কাশিপুরে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাটি ভেঙে পাশের নদীতে মিশে গেছে। ফলে ওই গ্রামের হাওরের ফসল অরক্ষিত অবস্থায় আছে। এলাকার কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, বরাবরই এ বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করে। বাঁধটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সব সময়ই নিম্নমানের কাজ করে সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দ লোপাট করে। এবারও বন্যার অপেক্ষা করে পুরো বরাদ্দ লোপাটের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, কাশিপুর নয়াহাটি ভাঙ্গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের হলেও হাওরের ফসল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই বাঁধ নির্মাণ করা উচিত। ফসল রক্ষার দায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা।

কাশিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, কাশিপুর গ্রামের নয়হাটি ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ না হওয়ায় গিলটি হাওর এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত। যেকোনো সময় বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে প্রথমেই হাওরে পানি ঢুকে যেতে পারে। এলাকার মানুষ হাওর রক্ষার জন্য বাঁধে মাটি দেওয়ার দাবি জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ গ্রামের কৃষক লিটন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডই সব সময় বাঁধটি নির্মাণ করে। তবে জরুরি কাজ করানোর কথা বলে বাঁধের পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত বাঁধে মাটি ফেলেনি। বন্যা বা বৃষ্টি এলে পানি ঢুকে যাবে হাওরে। শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম বলেন, শাল্লায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সব কাজই নিম্নমানের হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই-শাল্লার এসডি খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভাঙ্গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার করেছে বলে জেনেছি। বাঁধে আমাদের মাটি ফেলার কথা নয়। তবে তারা যদি বাঁধ নির্মাণ না করে, আমরাই করব। ’ সময় শেষ হয়ে এলেও গুরুত্বপূর্ণ ও বড় এ বাঁধটিতে এখনো কেন মাটি ফেলা হলো না—জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়রুল আমীন বলেন, কাশিপুর এলাকায় আমাদের রাস্তাটি অনেক আগেই ভেঙে গেছে।


মন্তব্য