kalerkantho

দীঘিনালা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

অনিয়মের কর্তা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বিনা ছুটিতে মাসের পুরো সময় কাটান গ্রামের বাড়িতে। নৈশপ্রহরী থাকেন ঢাকায়, তবুও তাঁর নামে মাসের পর মাস বেতন উঠছে।

গত ২৩ মার্চ ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। অফিস থেকে জানানো হয়, তিনি ১ মার্চ বাড়ি গেছেন। তাঁর মোবাইল ফোনে কল করলে বলেন, ‘আজ রাতে রওনা হচ্ছি। ’ তিনি ছুটিতে ছিলেন বলে পরের দিন দীঘিনালায় পৌঁছে জানান।

এদিকে মাধ্যমিক কর্মকর্তার কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। কিন্তু প্রতি মাসে তাঁর নামে বেতন-বিল উত্তোলন হচ্ছে। নতুন পে স্কেলের বকেয়া বেতনসহ মার্চের শেষ সপ্তাহে তাঁর নামে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মিজানুরের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ টাকা কর্মকর্তা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য ওই কর্মকর্তা নৈশপ্রহরীর অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে নৈশপ্রহরীর মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে ‘তা নেই’ বলে দাবি করেন। বেতন-বিল উত্তোলনের ব্যাপারে কর্মকর্তা বলেন, ‘মিজানুর অসুস্থ, সে ঢাকায় থাকে। বেতনের সময় এসে বেতন তুলে নিয়ে যায়। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয় তো সেক্রিফাইস করতে হয়। ’

এ ছাড়া দীঘিনালা কার্যালয়ের সরকারি মোটরসাইকেল শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের লোকজন জানান, প্রায় এক বছর আগে অফিসের সরকারি মোটরসাইকেল কর্মকর্তা তাঁর সিরাজগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে কর্মকর্তা বলেন ‘মোটরসাইকেল আছে। ’ তবে ২৪ ও ২৫ মার্চ তিনি মোটরসাইকেল দেখাতে পারেননি। পরে ২৬ মার্চ সাইফুল বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি অফিস রুমে। ’ গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় অফিস সহকারীর কক্ষে মোটরসাইকেলটি রাখা আছে। জানতে চাইলে অফিস সহকারী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রায় এক বছর মোটরসাইকেলটি ছিল না। সকালে আমার রুমে ঢোকানো হয়েছে। তখন আমি অফিসে ছিলাম না। কোত্থেকে কিভাবে এলো, জানি না। ’ গৌতম উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনিই বলুন, এটি থাকবে বাইরে, ব্যবহার হবে। আর অচল হলে থাকবে গোডাউনে, আমার অফিস রুমে কেন?’

এমএলএসএস সুজিত ত্রিপুরা বলেন, ‘সকালে হঠাৎ সাহেব বলছিলেন, লোক নিয়ে নিচ থেকে মোটরসাইকেলটি তুলে এনে অফিসে রাখতে। আমি তাই করেছি। ’

এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছুটি নেননি বলে আমাকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ মার্চ মাসিক সমন্ব্বয় সভায় দীর্ঘদিন কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে তাঁকে কারণ দর্শানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা সভার কার্য বিবরণিতে আনা হয়েছে। ’


মন্তব্য