kalerkantho


পাঁচ জেলায় ঝড় শিলাবৃষ্টি

ফসল ফল গাছপালা বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফসল ফল গাছপালা বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

কালবৈশাখী ঝড়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চরখাজুরা গ্রামে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে গেছে। মারা গেছে ১৫ হাজারের অধিক বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কালবৈশাখী ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ফসল, ফল, গাছপালা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝিনাইদহে মারা গেছে হাজারো পাখি।

বাগেরহাটের কচুয়ায় শিলাবৃষ্টিতে তিন সহস্রাধিক ঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চালের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে এবং গতকাল শুক্রবার এ ঝড়-বৃষ্টি আঘাত হানে।

ঝিনাইদহ : ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ও বুধবার রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকুপা এবং কালীগঞ্জ উপজেলার একাংশে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। এতে ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকার আরাপপুর, মুরারীদাহ ও চরখাজুরা, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া, সড়াতলা, কন্যাদাহ, মকিমপুর, বিন্নী, ভাদড়া, শৈলকুপার ভাটই, কুলচারাসহ অন্তত ২৫টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাঁচা, আধাপাকা সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়। গাছ ও ঘরচাপা পড়ে আহত হয় অন্তত ১০ জন।

কলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। মারা যায় শালিক, দোয়েল, বক, দৈরাজা, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখি। ঝড়ে আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহ মোহা. আকরামুল হক জানান, ওই চার উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ও গাছপালার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

বাগেরহাট : গতকাল ভোরে জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া, ধোপাখালী ও গজালিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে শিলাবৃষ্টি বয়ে যায়। এতে ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। চালের টিন এমনভাবে ছিদ্র হয়েছে যে বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর ভিজতে হবে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়। গতকাল বিকেলে কচুয়ার ইউএনও কাজী মাহাবুবুর রশিদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশন করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল ভোরে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বড় বড় শিলার আঘাতে ওই তিন ইউনিয়নের বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চালে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালামাল, পাকা বোরো ধান, তরমুজ ও বিভিন্ন সবজি। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে—আশঙ্কায় এখন ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। কচুয়ার ইউএনও কাজী মাহাবুবুর রশিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত জেলার সর্বত্র প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। একই সঙ্গে ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়ে গাছপালা। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে গতকাল দিনভর অঝোর ধারায় বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবু নাছের জানান, জেলায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। তবে গতকাল বিকেল নাগাদ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিতে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলায় ঝড়ে শত শত হেক্টর জমির সূর্যমুখী, ভুট্টা ও উঠতি মুগডালসহ সবজির বিশাল ক্ষতি হয়েছে। নলছিটির বেশ কয়েকটি গ্রামে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শুক্রবার ভোররাত থেকে গতকাল বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নলছিটি উপজেলার সর্বত্র ও কাঁঠালিয়ার ১৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কালবৈশাখীতে রাজাপুর উপজেলায় সূর্যমুখীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ফুল ও গাছ ভেঙে পড়ায় এর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে কৃষকরা। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কৃষকরা গতকাল সকালেই স্থানীয় কৃষি বিভাগকে জানিয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। নলছিটির চারটি গ্রামে কালবৈশাখীতে গাছপালার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : পার্বতীপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চৈত্রের ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আম, লিচু, ভুট্টা ও গমক্ষেতের। ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় হঠাৎ ঝড় শুরু হলে কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে যায়; ভেঙে পড়ে আম ও লিচুগাছের ডালপালা; শুয়ে পড়ে ভুট্টাগাছ। রাত ১১টার দিকে ঝড় থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। এতে আমের মুকুল ও লিচুর কলি ঝরে পড়ে। ফেটে যায় লিচুর কলি। মোমিনপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর এলাকার আম ও লিচু বাগানের মালিক আসলাম হোসেন জানান, তাঁর দুই একর জমিতে আমবাগান রয়েছে। অধিকাংশ আমের মুকুল ঝরে গেছে। তাঁর বাগানের লিচুরও প্রচুর কলি ঝরে পড়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবির বলেন, ঝড়ে আম, লিচু, ভুট্টা ও গমক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


মন্তব্য