kalerkantho


দুই মাস না যেতেই ধস

বাঁশখালীতে পাউবোর বেড়িবাঁধ সংস্কার

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দুই মাস না যেতেই ধস

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ সংস্কারের পর দুই মাস পার না হতেই ফাটল দেখা যাচ্ছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বর্ষায় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষায় ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়; কিন্তু তখন কাজ করা হয়নি।

বর্ষার পরে যেনতেনভাবে মাটি ও কিছু বস্তা ফেলে কাজ শেষ করেন ঠিকাদাররা। ফলে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার দুই মাসের মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়ে। দেখা দেয় ফাটল। বাঁধটি সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে আরো ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্ষা আসন্ন হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।

বাঁশখালী পাউবো অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর ছনুয়া উপকূলের শেলবন, মধুখালী ও ছনুয়ার টেক এলাকায় গত বর্ষায় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে ভয়াবহ ক্ষতি হয়। প্রতিদিনই ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরের নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এ ভাঙন তথা পানি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ওই সময় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনটি এলাকার পাঁচ স্থানে পাঁচজন ঠিকাদারকে (১০ লাখ টাকা করে) এ কাজ দেওয়া হয়।

ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর করিম শরীফি, সহসভাপতি নুরুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর কবির ও মো. শহীদুল্লাহকে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদাররা গত বর্ষায় (মে-জুন-জুলাই-আগস্ট) ওই কাজ করেননি। বর্ষা শেষে গত বছরের নভেম্বর, ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধে ভাঙা বেড়িবাঁধের লাগোয়া স্থান থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি এনে ও মাটিভর্তি কিছু বস্তা ফেলে যেনতেনভাবে সংস্কারকাজ সারেন। অথচ নিয়ম রয়েছে দূর থেকে মাটি এনে বেড়িবাঁধ সংস্কার করার। এদিকে ওই কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার দুই মাসের মাথায় গত ২১ মার্চ হালকা বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন স্থান মাটিভর্তি বস্তাসহ ধসে পড়ে এবং সংস্কার করা পুরো বাঁধে ফাটল দেখা দেয়।

ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর করিম শরীফি বলেন, ‘কাজ করে এখনো বিল পাইনি। নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে এই কাজ করেছি এলাকার স্বার্থে। বর্ষা শেষে এতটুকুন কাজ যে (টিকে) আছে তা অনেক। এসব এলাকার জন্য আবারও ৫৬ কোটি টাকার ব্লকের কাজ বরাদ্দ হয়েছে। এগুলো (সংস্কার করা বাঁধ) নষ্ট হলেও অসুবিধা নেই। ’

এক ঠিকাদার বলেন, ‘দুই দফায় ১৫ শতাংশ অফিশিয়াল ঘুষ দিয়েছি বিল পাওয়ার জন্য। কিন্তু এখনো আমরা এক টাকাও বিল পাইনি। নিউজটা পজিটিভ লেখেন, নেগেটিভ লিখবেন না। আমাদের বিল আটকে যাবে। ’

আরেক ঠিকাদার বলেন, ‘প্রতি গ্রুপে দুই হাজার টাকা করে পাঁচ ভাগে ১০ হাজার টাকা ভাত-খরচও (কাজ দেখতে আসা পাউবো কর্মকর্তাদের খাওয়ানো বাবদ খরচ) ঘুষ দিতে হয়েছে। কাজ করে আমাদের কী থাকবে? এসব জানলে কাজ করতাম না। ’

আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘এসব (সংস্কার) কাজ বর্ষায় পানি ঠেকানোর জন্য ছিল। বেড়িবাঁধ টেকানোর জন্য নয়। অথচ এখনো পুরো বেড়িবাঁধ (টিকে) আছে। ’

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘বর্ষায় পানি ঠেকানোর কাজ বর্ষা শেষেও দৃশ্যমান। এখানে কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম হয়নি। বেড়িবাঁধ যে (টিকে) আছে তা-ই অনেক। আবার নতুন বরাদ্দের কাজ শুরু হবে শিগগিরই। ’ তিনি ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অবাস্তব বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘এখনো বিল পাইনি, (ঠিকাদাররা) ঘুষ দেবে কোত্থেকে? তা ছাড়া ইমারজেন্সি বিল ঢাকা অফিস থেকে হয়। ওখানকার কর্মকর্তারা তদন্ত করে বিল দেন। ’

ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বলেন, ‘ছনুয়ার উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে ৫০ লাখ টাকার ইমারজেন্সি বেড়িবাঁধের (সংস্কার) কাজ শেষ হয়েছে। নতুনভাবে আবারও ৩০ লাখ টাকার ইমারজেন্সি কাজ বরাদ্দ হয়েছে। বর্ষা আসন্ন প্রায়। অথচ ওই ৩০ লাখ টাকার কাজ শুরুই হয়নি। দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। এইটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ এ রকমই হয়। ’


মন্তব্য