kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আজ কেরানীগঞ্জে গণহত্যা দিবস

পাঁচ হাজার মানুষকে সেদিন হত্যা করা হয়

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে গণহত্যা দিবস। একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদাররা কেরানীগঞ্জে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষকে হত্যা করে। কেরানীগঞ্জবাসীর জন্য এটি একটি ভয়াল স্মৃতিবিজড়িত দিন। দিবসটি উপলক্ষে কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা প্রশাসন, কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২ এপ্রিলের প্রথম প্রহরে স্থানীয় মনু ব্যাপারীরঢাল এলাকার স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা শহরের নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী ও ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা নদীঘেরা কেরানীগঞ্জ উপজেলা অবস্থানগত কারণে একাত্তরে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূূর্ণ আশ্রয়স্থল। ফলে সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কেরানীগঞ্জে নিরাপদে আত্মগোপন করে ঢাকা ও পাশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও রসদের জোগান, যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, জাতীয় নেতাদের ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কেরানীগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ঢাকা শহরের আতঙ্কিত নিরস্ত্র নিরীহ লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দলে দলে কেরানীগঞ্জে আসতে শুরু করে। এমনকি জাতীয় নেতারাও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এখানে চলে আসে।

২ এপ্রিলের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সর্দারবাড়ির বৃদ্ধ হামিদা খাতুন চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, সেদিন হানাদার বাহিনী তাঁর স্বামীসহ তাঁদের তিন সহোদর আফজালুল হক, এরফানুল হক, ফায়েকুল হক ও চাচাতো ভাই তৎকালীন খাদ্য পরিদর্শক ওবায়দুল হককে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া উপজেলার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে শহীদদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হবে।


মন্তব্য