kalerkantho


খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে সার

নগরবাড়ীতে আপৎকালীন গুদাম নেই

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে সার

আপৎকালীন গুদাম না থাকায় পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী ঘাটের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে সার। রোদ ও বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে সারের মান। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত নগরবাড়ী ঘাটে প্রায় দুই লক্ষাধিক বস্তা সার খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। রোদ-বৃষ্টি-কুয়াশায় এসব সার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও পরিবহন ঠিকাদাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি আপৎকালীন মজুদ গুদাম (বাফার) স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, বাফার গুদাম থাকলে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সার ফেলে রাখতে হতো না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার গুদাম রয়েছে মোট ১৪টি। নগরবাড়ী ঘাট ও সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের মাধ্যমে এসব গুদামে সার সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে বিসিআইসি অনুমোদিত পরিবহন ঠিকাদাররা সার এনে নগরবাড়ী ঘাট ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে নামান। এরপর সেখান থেকে সেই সার ট্রাকে করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। সার ব্যবসায়ীরা জানান, দুই-তিন বছর হলো বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের চেয়ে নগরবাড়ী ঘাটের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সার সরবরাহকে সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ঘাটে জাহাজ থেকে সার নামানোর পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে সেখানে খোলা আকাশের নিচে সারের স্তূপ বেড়ে চলেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরবাড়ী ঘাটে নদীর তীর থেকে শুরু করে রাস্তা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশ জুড়ে খোলা জায়গার পুরোটা সারের স্তূপে ভর্তি হয়ে আছে। নৌঘাটে বিক্ষিপ্তভাবে ভিড়ে আছে সারভর্তি আট থেকে দশটি জাহাজ। এর দুই-তিনটি থেকে সার নামিয়ে পুরান স্তূপের ওপর অথবা পাশে কোনো রকমে ঠেসেঠুসে রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ছয় থেকে সাতটি ট্রাকে সার বোঝাই হতেও দেখা যায়।

নৌঘাটে কর্মরত শ্রমিক সরদার আব্দুল জলিল বলেন, ‘নগরবাড়ী ঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুইড়্যা দুই লাখ বস্তারও বেশি সার আছে। রোদ-বৃষ্টিতে এসব সারের ক্ষতি হত্যাছে। এই জায়গায় একটা বাফার গুদাম থাকলি রোদ-বৃষ্টি নিয়্যা এত ভাবনা হতো না। ’

স্থানীয় সার ব্যবসায়ী ও পরিবহন ঠিকাদাররা জানান, কয়েক বছর আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার নগরবাড়ী ঘাট পরিদর্শন করে বাফার গুদাম স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া সরকারি একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে গুদাম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। এ জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু পরে তা থেমে যায়।

নগরবাড়ী ঘাট নলখোলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এম রফিকউল্লাহ বলেন, ‘নগরবাড়ী ঘাট দেশের অন্যতম সার সরবরাহ কেন্দ্র। এখানে একটি বাফার গুদামের প্রয়োজনীয়তা যে কত তা বলে শেষ করা যাবে না। এখানে দেড় শতাধিক বেসরকারি গুদাম থাকলেও সেগুলোতে ইউরিয়া সার রাখা হয় না। ফলে গোটা উত্তরাঞ্চল ও টাঙ্গাইল জেলার জন্য এখানে জাহাজ থেকে ইউরিয়া সার যা নামানো হয় তার পুরোটাই নদীতীরে খোলা জায়গায় নামিয়ে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। অনেক সময় দুই-তিন মাস বা তারও বেশি সময় ধরে সারের বস্তা এভাবে ফেলে রাখতে হয়। গুদাম থাকলে খোলা আকাশের নিচে এভাবে সার ফেলে রাখতে হতো না। ’

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘নগরবাড়ী ঘাটে বাফার গুদাম প্রয়োজন। আমার জানা মতে, গুদাম নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। তার পরও তা নির্মাণ না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। ’


মন্তব্য