kalerkantho

সরকারি জমি বেদখল

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



সরকারি জমি বেদখল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পাইটকাপাড়া গ্রামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নামে দান করা ৩২ শতাংশ জমি এক ব্যক্তি দখলে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ওই জমিতে স্থাপনাও গড়ে তোলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের প্রয়াত সাংবাদিক ওবায়দুল মোকাদ্দেস চৌধুরী ১৯৮০ সালের ৬ অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক শিশুকল্যাণ সংস্থার নামে ৩২ শতাংশ জমি দান করেন। সেখানে কল্যাণমূলক কাজের জন্য একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেন তিনি। এরপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উন্নয়নমূলক নানামুখী কার্যক্রম পরিচালিত হয় সেখানে। প্রায় ১০ বছর সচল থাকার পর এর কার্যক্রম বন্ধ হলে স্থাপনাসহ স্থানটি পরিত্যক্ত হয়। এ সময় পাশের মমিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তি সুকৌশলে স্থাপনাসহ জমি রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি তিনি ওই জমির চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিয়ে বসতবাড়ি স্থাপনের পাঁয়তারা করছেন।

গ্রামের মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই জমিটি দান করেছিলেন সাংবাদিক ওবায়দুল মোকাদ্দেস চৌধুরী। কিন্তু সমাজসেবা বিভাগের উদাসীনতার কারণে জমিটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে মমিনুর সমাজসেবা বিভাগের নির্দেশে বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন বলে দাবি করেন। ওই জমি দখলে প্রভাব খাটানোর জন্য তিনি বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করছেন। ’

গ্রামের এরশাদ বিন এমদাদ বলেন, ‘মহৎ উদ্দেশ্যে দান করা ওই জমি রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। জমি ও স্থাপনা জনকল্যাণে ব্যবহার হোক, এটাই আমরা চাই। ’

জমিদাতা প্রয়াত সাংবাদিক ওবায়দুল মোকাদ্দেস চৌধুরীর স্ত্রী গোলে জান্নাত হিলালা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে জমিটি দান করেছিলেন। একসময় সমাজসেবার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর তিনি সেখানে গাছ লাগিয়ে এর দেখাশোনা করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর স্বামী মারা গেলে ওই জমি এলাকার মমিনুর রহমান দখলে নিয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন। এলাকার মানুষ তাঁর অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তিনি বিভিন্ন উপায়ে প্রভাব খাটিয়ে জমিটি তাঁর (মমিনুর) দখলে রেখেছেন। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটি পরিত্যক্ত আধাপাকা ঘরসহ ৩২ শতাংশ জমির পুরোটাই ঘিরে রাখা হয়েছে টিনের বেড়া দিয়ে। সেখানে শতাধিক নিমগাছ লাগানো হয়েছে। ওই গাছের ফাঁকে সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে টিন ও বাঁশের তৈরি একাধিক ঘর। সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মমিনুর রহমান। এ সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমাকে জমিটি দেখার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি গাছ লাগিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করছি। এলাকার ছেলেরা এখন জায়গা চায় ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য। কিন্তু জায়গা না দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে। তারা জোর করে খেলার মাঠ করার হুমকি দিলে আমি জমিটি ঘিরে রেখেছি। ’ জমিতে নতুন করে ঘর নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জমিটি রক্ষার জন্য এখন আমাকে রাতে অবস্থান করতে হয়। একই কারণে আমার পরিবারের সদস্যরা এখন সেখানে দিনরাত অবস্থান করে। এ ছাড়া কয়েকটি গরু পালনের জন্য ঘর নির্মাণ করেছি। ’ জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সমাজসেবা লিখিত দায়িত্ব দিয়েছে দাবি করলেও কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।

জলঢাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনিমুন আখতার বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। দখলদারকে উচ্ছেদের জন্য জেলা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। জেলার পরবর্তী সভায় লিখিতভাবে সেটি উপস্থাপন করব। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সেখানে আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই, তাই জমিটি দখলমুক্ত করে রাখব, নাকি দাতার জমি দাতাকে ফেরত দেব—এ বিষয়ে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হবে। ’

জেলা সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। উপজেলা কর্মকর্তাকে লিখিত রিপোর্ট দিতে বলেছি। সে অনুযায়ী জেলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য