kalerkantho


আসামিরা ঘুরে বেড়ায় পুলিশ বলছে পলাতক

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আসামিরা ঘুরে বেড়ায় পুলিশ বলছে পলাতক

বাকৃবির আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মমতাজ হত্যা মামলার কিনারা হয়নি দীর্ঘ ২৪ মাসেও। নিজ দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ রাতে নির্মম নির‌্যাতনের শিকার হয়ে পরদিন ১ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরদিন ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। এদিকে সায়াদ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে, পলাতক থাকার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২৪টি মাস তথা দুই বছর পার হলেও এর সঙ্গে জড়িতরা বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সায়াদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৪ জনের নাম থাকলেও তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি। উল্টো আন্দোলনকারীদের একের পর এক হুমকিধমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা।

সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলের ২০৫ নম্বর কক্ষে সায়াদকে আটকে রেখে কার্পেট দিয়ে মুড়িয়ে লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেটানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল ছয় ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন মো. রেজাউল করিম রেজা, সাদের সহপাঠী সুজয় কুমার কুণ্ডু, রোকনুজ্জামান, নাজমুল শাহাদাত, দেওয়ান মুনতাকা মুফরাদ ও অন্তর চৌধুরী। এদের মধ্যে রেজা আশরাফুল হক হল ইউনিটের ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন, সুজয় ও নাজমুল সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যরা ছিলেন সক্রিয় কর্মী।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় পুলিশ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে এর আগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযুক্তরা হলেন সুজয় কুমার, রোকনুজ্জামান, সাদেকুর রহমান, রোকন, রেজাউল করিম, নাজমুল শাহাদাত, মুনতাকা মুফরাত, অন্তর চৌধুরী, সুমন পারভেজ, মিজানুর রহমান, ফয়সাল ইসলাম, মনোয়ারুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও প্রশান্ত দে।

জানা গেছে, এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে। অভিযুক্তদের প্রথম আটজনকে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারা সবাই এখন জামিনে রয়েছেন। বাকি ছয়জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি রয়েছে। পুলিশ তাদের পলাতক বললেও প্রায়ই ক্যাম্পাসে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


মন্তব্য