kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


চেয়ারম্যানের সিল প্রকাশ্যে মেম্বার ভোট গোপনে

ভোলা প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



চেয়ারম্যানের সিল প্রকাশ্যে মেম্বার ভোট গোপনে

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা। ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের উত্তর মুরাদ ছবুল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ভোলা-লক্ষ্মীপুর-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মানুষের জটলা। এ সময় পুলিশবাহী দুটি মাইক্রোবাস থেকে ছয়-সাতজন পুলিশ নেমে বাঁশি বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দেয়। ভোটকেন্দ্রের সামনে তখন নারী-পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন। সেখানেও ভোটারদের লাইনে দাঁড় করানোর কাজে ব্যস্ত বেশ কয়েকজন পুলিশ ও আনসার।

ভোটকেন্দ্রের বাইরের এসব দৃশ্য দেখে মনে হবে ভেতরে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ চলছে। কিন্তু কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ একেবারেই উল্টো। কেন্দ্রের প্রায় প্রতিটি বুথে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের হইচই-চেঁচামেচি। মহিলা বুথটি ঘিরে রেখেছে আওয়ামী লীগের তিনজন কর্মী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর এজেন্ট কার্ড বুকে ঝোলানো আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের ব্যালট পেপার হাতে নিয়ে নিজেই প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাসনাইন আহম্মেদ হাসানের নৌকা প্রতীকে সিল মারছেন। আর বাকি মেম্বার পদপ্রার্থীর দুটি ব্যালট পেপার ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এ কাজে তাঁকে সহায়তা করছেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট। জানতে চাইলে ভোটাররা কিছু বলতে চাননি।

আওয়ামী লীগ কর্মী আলাউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, এখানে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ভোট প্রকাশ্যে, আর মেম্বার প্রার্থীদের ভোট গোপনে দেওয়া হচ্ছে। পুরুষ বুথেও দেখা গেছে একই চিত্র। ওই বুথে নুরে আলম নামে চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক কর্মী একইভাবে ভোটারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান পদে ব্যালট নিজে হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে সিল মেরে বাক্সে ঢোকাচ্ছেন। আর মেম্বার পদপ্রার্থীর ব্যালট ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজিউর রহমান কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে দেখা গেছে ভেতর থেকে বন্ধ করে একটি কক্ষে একা বসে রয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কী আর বলব ভাই, দেখতেই তো পাচ্ছেন। বুঝতেই তো পাচ্ছেন। আমরা অসহায়। ’ তিনি আরো বলেন, এ কেন্দ্রে মেম্বার পদে গোপনে হলেও চেয়ারম্যান পদে প্রকাশ্যে ভোট হচ্ছে। প্রিসাইডিং অফিসার আরো বলেন, এ কেন্দ্রে যেখানে চারটি বুথ হওয়ার কথা, সেখানে ১০টি বুথ করা হয়েছে। তাই বিশৃঙ্খলা বেশি হচ্ছে। কেন্দ্রে চার হাজার আট ভোটের মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সাত শর মতো ভোট পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল হোসেন জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে।


মন্তব্য