kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

শামীমের কাঁধে মা বাবা বোনের লাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাত ১০টার দিকেও মা-বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে শামীম (১৫)। তাঁরা তাকে ১টার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন বলে জানান। অপেক্ষায় থেকে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে শামীম। হঠাৎ নানির চিত্কারে ঘুম ভাঙে তার। নানির কথা শোনে কাঁপতে থাকে সে।

রাত ১টার দিকে নানিকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শামীম দেখে, গুরুতর আহত মা সালমা খাতুনের (৪০) চিকিৎসা চলছে। তাকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তার বাবা জনাব আলী (৫৫) ও দুই বছর বয়সী ছোটবোন টিয়া। তখন শামীমের বুকভাঙা কান্না ও চিত্কারে নীরবতা ভাঙে হাসপাতালের। কিছুক্ষণ পর আবার দুঃসংবাদ। তার মাও চলে গেছেন পরপারে!

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর দড়িচড়িয়াকোনা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবেই মা-বাবা-বোনকে হারায় শামীম। জনাব আলীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের পাগলার সাঁইবাজার গ্রামে। তবে থাকতেন কুমিল্লায়। সেখানে রিকশা চালানোসহ যখন যে কাজ পেতেন, তা করেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলতেন।

পরিবারের লোকজন জানায়, কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় থেকে আলীর সংসারের অভাব দূর হচ্ছিল না। তাই ভাগ্য বদলের আশায় সম্প্রতি তিনি সপরিবারে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। এখানে আলীর শাশুড়ি থাকেন। কয়েক দিন আগে সেখানে বড় ছেলে শামীমকে পাঠিয়ে দেন। শামীম বিন্নাটি এলাকার একটি হোটেলে কাজ করছিল। মঙ্গলবার মেজ ছেলে বাবুকে বাসায় রেখে আলী স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে করে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে পিকআপটি কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের দড়িচড়িয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। কটিয়াদী থানা পুলিশের ধারণা, পিকআপচালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। গতকাল বুধবার সকালে জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, শামীমকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন নানি রহিমা খাতুন। কিন্তু তার কান্না থামছে না কিছুতেই। এ সময় উপস্থিত অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়।

রহিমা খাতুন জানান, কিশোরগঞ্জে মেয়ের পরিবারের থাকার সব ব্যবস্থাই তিনি করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘একটু সুহের (সুখ) লাইগ্যা আমার ছেড়িডা (মেয়ে) কত খানো (জায়গা) গেল। আমার ছেড়ির আর কুনু চিন্তা নাই। জিন্দিগির লাইগ্যা আর দৌড়ন লাগত না। সব শ্যাষ হইয়ে গেছে। ’

কটিয়াদি থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, দুর্ঘটনার পরই পিকআপচালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। পরিবারের লোকজনের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পিকআপটি থানায় আনা হয়েছে।


মন্তব্য