kalerkantho

26th march banner

আওয়ামী লীগ-বিএনপির সামনে ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আওয়ামী লীগ-বিএনপির সামনে ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা

সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৪ প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৪৪ জন এবং বিএনপির ২১। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রধান দুই দলের মনোনীত প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা সরে না দাঁড়ালে ভোটের ফল পাল্টে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

জানা গেছে, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মঈনুল হক। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন রঞ্জু কুমার দাস। কাঠইর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. বুরহান উদ্দিনের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আবদুল মতিন ও নূরুজ্জামান। ওই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী কামরুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জব আলী। মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সোবানের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক। এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আল আমীন। কোরবান নগর ইউনিয়নে কোহিনূর আলমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শামস উদ্দিন। বিএনপির মনফর আলীর সঙ্গে বিদ্রোহী আবুল বরকত ও মাসুক মিয়া। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থনে প্রার্থী হয়েছেন মতিউর রহমান।

রঙ্গারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালামের সঙ্গে বিদ্রোহী আবদুল করিম, আবদুল মালিক ও মহিউদ্দিন। বিএনপির আবদুল হাইয়ের সঙ্গে বিদ্রোহী রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফরহাদ রাজা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুকসেদ আলীর সঙ্গে বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল কাদির। সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডিলার আবদুস ছত্তার মিয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা ও ছাত্রলীগ নেতা আনিসুর রহমান রনি। গৌরারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হোসেন আলীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল ওয়াহাব।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রয়েছেন ১০ জন এবং বিএনপির দুজন। জয়কলস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. মাসুদ মিয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী মো. রাজা মিয়া। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. জগলুল হায়দারের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. নুরুল হক। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. ফয়জুল করীমের সঙ্গে বিদ্রোহী এম এ কাসেম চৌধুরী, পাথারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. আবুল ফয়েজের সঙ্গে বিদ্রোহী মো. শহিদুল ইসলাম। ওই ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. সামছুদ্দিন।

শিমুলবাক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. মিজানুর রহমান জিতুর সঙ্গে বিদ্রোহী আবদুল্লাহ মিয়া ও শাহীনুর রহমান। পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সৈয়দ হোসেন জায়গীরদার, হজরত আলী ও  মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এমদাদুল হক স্বপন।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগের ২১ বিদ্রোহী প্রার্থী। দোয়ারা সদর ইউনিয়নে  আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন  পেয়েছেন আবদুল হামিদ। তাঁর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল খালেক। বিএনপির বিদ্রোহী নূরুল আমিন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরে না দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, দলীয়ভাবে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য