kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।

হাঙ্গামার ভয়

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হাঙ্গামার ভয়

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। কিন্তু সহিংসতার আশঙ্কায় ১০৭টির মধ্যে ৮৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী বৃহস্পতিবার উপজেলার চৈত্রকোল, ভেণ্ডাবাড়ী, বড়দরগা, কুমেদপুর, মদনখালী, টুকুরিয়া, শানেরহাট, পাঁচগাছি, মিঠিপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউপির নির্বাচন। এসব ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে অন্তত তিনটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে জাতীয় পার্টি, একটিতে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে আছেন বলে সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা ভালো করতে পারেন। বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিততে পারেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি পীরগঞ্জ। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ এলাকার সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের জন্য এই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তৃণমূল নেতাদের হাত করে টাকার জোরে অনেকে প্রার্থী হওয়ায় কর্মী-সমর্থকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক এলাকায় এ নিয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে প্র্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টিতেও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

গত সোমবার বড়দরগা ইউপির মির্জাপুর, পার্বতীপুর, ভগবানপুর; কুমেদপুর ইউপির চণ্ডীপুর, শীতলপুর, রসুলপুর; মদনখালী ইউপির হাসারপাড়া, কাফ্রিখাল, মাগুরা; কাবিলপুর ইউপির বিষ্ণুপুর, আজমপুর ও চতরা ইউপির কাটাদুয়ার, অনন্তপুর ও আগাচতরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে। তবে তাঁরা ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে সহিংস ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভোটার জানান, এখানে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হোক তা চাইবে না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ কারণে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

চতরা ইউপির অনন্তপুর বাজারে চায়ের দোকানে কথা হয় ভোটার নুর মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম ও অশ্বিনী রায়ের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক দাবি করে তাঁরা বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে কাবিলপুর ও চতরা ইউপিতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই দুটিসহ কয়েকটিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। ’

মিঠিপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান সরকার বলেন, ‘সঠিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়নি। বেশির ভাগ ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যার খেসারত দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। ’

তবে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বড়দরগা ইউপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাহারুল হক বাবলু টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তৃণমূলের মতামত ও সহযোগিতায় ১১টি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। ’

বড়দরগা ও কুমেদপুর ইউপির রিটার্নিং অফিসার (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা) সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘দুই ইউপির ভোটাররা নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা করেছেন। তাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। ’

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কে এন রায় নিয়তি বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য