kalerkantho


জিন্দাবাবার কবরবাস!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জিন্দাবাবার কবরবাস!

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নয়াপাথারিয়া গ্রামে গতকাল দুপুরে যখন কবর খুঁড়ে জিতু মিয়াকে বের করে আনা হয় তখন সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাত-পা বেঁধে পানিতে ভাসা ও কবরবাসের পর শত শত মানুষ ভক্ত হয়ে গেছে। এবার কথিত বাবা আগুনে প্রবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

হবিগঞ্জ শহরতলির পাশে বানিয়াচং উপজেলার নয়াপাথারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামে গতকাল দুপুরে যখন কবর খুঁড়ে এক ব্যক্তিকে বের করে আনা হয় তখন সেখানে শত শত মানুষের ভিড়। এলাকাবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে জিতু মিয়ার জিন্দা বের হওয়ার খবর। এরও তিন দিন আগে ওই ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানো হয়। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল ৩০০ গ্রাম আঙুর ও একটি বিস্কুটের বৈয়ম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের শাল্লা গ্রামের বাসিন্দা টেকাই মিয়ার ছেলে জিতু মিয়া (৮৬) প্রায় ২৫ বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার তিমিরপুর গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী-সন্তানদের রেখে বিভিন্ন মাজারে গিয়ে থাকেন।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি নয়াপাথারিয়া গ্রামে আসেন। এরপর হাত-পা বেঁধে গ্রামের বিভিন্ন পুকুরে ভেসে থাকেন। পরে মেন্দি মিয়ার পুকুর পাড়ে গিয়ে আস্তানা তৈরি করেন। সেখানেই কবর খুঁড়ে বাস করেন। এদিকে তাঁর আস্তানা ঘিরে ইতিমধ্যে ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করেছে।

কবরে প্রবেশের আগে জিতু মিয়া গ্রামবাসীর উদ্দেশে জানান, ৪৫ বছর ধরে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন মাজারে সাধনা করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ শহরতলির মরহুম আধ্যাত্মিক সাধক দেওয়ান মাহবুব রাজার ভক্ত। স্বপ্নের মাধ্যমে মাহবুব রাজার কাছ থেকে ‘চিল্লা’য় যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। ‘চিল্লা’ মানে কবরে প্রবেশ করা। তিনি বলেন, ‘এর আগে ১১ বার চিল্লায় গিয়েছি। ’ গতকাল মঙ্গলবার যখন তাঁকে কবর থেকে উত্তোলন করে গ্রামের উমর আলীর বাড়িতে আনা হয়, সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবার আগুনে প্রবেশ করে সবাইকে দেখাব। ’ জিতু মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা আরো কয়েকবার চিল্লায় গিয়েছেন। তবে আমরা দেখিনি। এবার প্রথম দেখলাম। ’ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘এটি এক ধরনের জাদু ও ভণ্ডামি। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ব্যবসা করার ফন্দি। ’

হবিগঞ্জ শহতলির দারুল ইরশাদ মাদ্রাসার শিক্ষক (মুহাদ্দিস) জাবের আল হুদা বলেন, ‘এটা এক ধরনের ভণ্ডামি। ’

বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ বলেন, ‘ঘটনা জানতে পেরে গতকাল আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে সেজন্য পুলিশকে বলেছি। ’

বানিয়াচং থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, ‘এটি এক ধরনের ভণ্ডামি। কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর হাজার হাজার ভক্ত সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ গেলে সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়নি। ’

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. দেব পদ রায় বলেন, ‘মানুষ যদি শ্বাস-প্রশ্বাস ও খাদ্য গ্রহণ করতে পারে তাহলে যেকোনো অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। ’ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবিনা আলম বলেন, ‘মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কুসংস্কারের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সবাই মিলে সচেতন করতে হবে। ’


মন্তব্য