kalerkantho

চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

জয়কে চায় জুঁই

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রায় সাত মাস ধরে আলাদা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে বাঘ জয় ও বাঘিনী জুঁইকে। যত দিন যাচ্ছে, দুজন একে অন্যের সঙ্গ পেতে তত উদগ্রীব হয়ে উঠেছে।

গত রবিবার দুপুরে বেষ্টনী থেকে জুঁই লাফ

দিয়ে বের হয়ে এরই প্রমাণ দিয়েছে।

পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরুল হুদা জানান, বেষ্টনীতে ব্যাঘ্রশাবক আঁখি ও নয়ন জন্ম নেওয়ার পর থেকে আলাদা করে রাখা হয় জয় ও জুঁইকে। ইতিমধ্যে সাত মাস পার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একা থাকতে থাকতে মনমেজাজ ভালো যাচ্ছিল না। দুজন একে অন্যকে কাছে পেতে উদগ্রীব অবস্থায় রয়েছে। কয়েক ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা জুঁই ভেতর থেকে লাফ দিয়ে বেষ্টনীর ছাদে উঠে পড়ে। এরপর বেষ্টনীর বাইরে নিচে নেমে আসে। পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন উপায় তাকে বশে আনতে অন্তত তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালান। ফের নির্দিষ্ট বেষ্টনীতে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

নুরুল হুদা আরো জানান, কয়েক দিনের মধ্যে শাবক আঁখি ও নয়নকে মা জুঁইয়ের কাছ থেকে আলাদা করে বেষ্টনীতে রাখা হবে। এরপর একসঙ্গে রাখা হবে জয় ও জুঁইকে। এতে আবারও প্রজনন হওয়ার আশা করছেন তিনি।

সূত্র জানায়, পার্কের বেষ্টনী থেকে বাঘিনী জুঁই বের হয়ে যাওয়ার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের সতর্ক করলে তারা পার্ক থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার সারা দিন পার্ক দর্শনার্থী শূন্য ছিল।

পার্কের কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘জুঁই বেষ্টনী থেকে লাফ দিয়ে দেওয়াল টপকিয়ে বের হয়ে পড়লেও দূরে কোথাও যায়নি। তা ছাড়া সে দীর্ঘদিন ধরে পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সান্নিধ্যে ছিল। তাই নিয়মিত যেসব কর্মচারী জুঁইকে খাবার দিত তাঁরাই অনেক ফুসলিয়ে ফের বেষ্টনীর ভেতর নিয়ে যান। এ কারণে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে সবাই। ’


মন্তব্য