kalerkantho


এমপি দুর্জয়ের মদদে বিদ্রোহ

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এমপি দুর্জয়ের মদদে বিদ্রোহ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাতটিতে বিদ্রোহ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় এই বিদ্রোহে মদদ দিচ্ছেন বলে লিখিত অভিযোগ উঠেছে।

বহিষ্কার করেও বিদ্রোহীদের থামানো যাচ্ছে না। উল্টো প্রশাসনও তাঁদের পক্ষে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকমিরপুর, বাচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর, চরকাটারী, কলিয়া ও ধামশ্বর ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন চকমিরপুরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বাচামারায় আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ, বাঘুটিয়ায় মো. তোফাজ্জল হোসেন তোতা, জিয়নপুরে ইশারত আলী হামবলী, চরকাটারীতে আয়ুব আলী, ধামশ্বরে এম এ বাছেদ হারুন কদ্দুস ও কলিয়া ইউপিতে আব্দুল বাতেন।

তাঁদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। বরং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচার-প্রচারণার দৌড়ে বেশ ভালোভাবে টিকে আছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন। গত রবিবার তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের প্রভাবে পুলিশ ও প্রশাসন বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহযোগিতা করছে।

চকমিরপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নির্দেশে তাঁর এপিএস শামসুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জুলেল রানা, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, ইউনিয়ন সভাপতি কফিল উদ্দিন, সদস্য বেলাল হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তাঁর পক্ষে কাজ করায় যুবলীগ নেতা মো. রিপন মিয়াকে এরা হত্যার হুমকি দিয়েছে। রিপন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। ’

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, জিয়নপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন, চরকাটারী ইউপির মোহাম্মদ আলী হিপু, বাঘুটিয়া ইউপির জাহাঙ্গীর আলম, বাচামারা ইউপির প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার প্রায় একই অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে চকমিরপুর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘দৌলতপুরে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের মূল ধারার লোক নন। তাঁদের অধিকাংশ এসেছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা অন্য দল থেকে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় পিস কমিটির সদস্যের ছেলেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। আওয়ামী লীগকে বহিরাগতদের হাত থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে আমরা প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনে অধিকাংশ আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হবেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত। ’ সংসদ সদস্য তাঁদের সহযোগিতা করছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা মিথ্যা কথা। ১৫ দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ’

বাচামারা ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আ. লতিফ অভিযোগ করে বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি থাকতেন বিদেশে। তাঁর পরিবারের লোকজন জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। ’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘টাকা-পয়সা ছাড়া এরা মনোনয়ন পায় কী করে?’ অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য যদি সহযোগিতা করতেন, তাহলে আমিই মনোনয়ন পেতাম। ’

সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় বিদেশে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, ১২ দিন ধরে যে লোক বিদেশে তিনি কিভাবে নির্বাচনে প্রভাব রাখতে পারেন? একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় দলীয় পর্যবেক্ষণ কমিটি আছে। এরা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রার্থী মনোনয়ন দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


মন্তব্য