kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আ. লীগ-জাসদ মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আ. লীগ-জাসদ মুখোমুখি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জয়ী হতে ‘মরিয়া হয়ে’ মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরিক দল জাসদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ফলে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগ-জাসদের এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ভোটাররা। কিন্তু চুপচাপ থেকে ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করছে বিএনপি। আগামী ৩১ মার্চ ভেড়ামারা উপজেলার ছয়টি ইউপিতে নির্বাচন হবে।

ভোটাররা বলছেন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ ভেড়ামারা এলাকার মানুষ। দুজনেরই কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যে কারণে স্থানীয় প্রশাসন বেশ বেকায়দায় রয়েছে। অবশ্য প্রশাসন বলছে, শতভাগ নিরপেক্ষ হবে নির্বাচন।

ছয় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-জাসদ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বিএনপি, জামায়াতসহ (স্বতন্ত্র) অন্য সংগঠনের ২৭ জন প্রার্থী তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা আশা করছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সব কটি ইউনিয়নেই জয়লাভ করবেন বিএনপির প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ-জাসদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ততই বাড়ছে।

গত এক সপ্তাহে ভেড়ামারার ছয়টি ইউনিয়নেই জাসদ-আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কমবেশি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আচরণবিধি না মানার পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন নেতারা। মোকারেমপুর ইউনিয়নে প্রচার চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস সামাদের কর্মীদের হামলার শিকার হন জাসদের প্রার্থী বেনজির আহম্মেদ বেনু ও তাঁর লোকজন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সামাদ। এ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ বুলবুল বলেন, ক্ষমতাসীন ও তাদের শরিকরা যে হানাহানি করছে তাতে সাধারণ ভোটাররা খুবই শঙ্কিত। এলাকাবাসী বলছে, শুধু মোকারেমপুরেই নয়, ধরমপুর, জুনিয়াদহ ইউনিয়নেও বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করবেনই। তাঁরা আশা করছেন, ভেড়ামারার ছয় ইউনিয়নের সব কটিতেই নৌকার প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা জাসদ। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, ‘মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। এখন পর্যন্ত ভেড়ামারায় তেমন কিছু ঘটেনি। তবে প্রার্থীরা সহনশীল আচরণ করবেন বলে আমি আশা করি। ’

তবে ভিন্ন কথা বলছেন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মোহসিন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাঁদের লোকজন জাসদ প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছ। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী বলেন, ‘ভেড়ামারার সব কটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাঁদের লোকজন আমাদের প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ’

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, ভেড়ামারার কয়েকটি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। সামনে যাতে এসব ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ’


মন্তব্য