kalerkantho


সিরাজগঞ্জে অর্ধকোটি টাকার মালামাল ক্রয়

সিলগালার আগেই বাক্সে দরপত্র জমা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অর্ধকোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের পুনঃ দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত বাক্স সিলগালা করার আগেই তাতে তিনটি দরপত্র জমা ছিল।

এ নিয়ে ঠিকাদাররা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দপ্তরের ব্যবহারিক কাজে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য দুটি গুচ্ছে গত ৫ মার্চ পুনঃ দরপত্র ডাকা হয়। সরকারি অর্থায়ন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ দরপত্র ডাকেন। দরপত্র বিক্রির জন্য ওই ইনস্টিটিউট ও ঢাকার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালকের কার্যালয় নির্ধারণ করেন। সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রাখা সিলগালা বাক্সে ২৮ এপ্রিল দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল।

গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রাখা বাক্সটি সিলগালার জন্য যাননি। পৌনে ১১টার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের সিভিল বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম সিলগালা করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যান। কিন্তু বাক্সের ভেতর আগে থেকে তিনটি দরপত্র রাখা ছিল।

বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ও পিয়ন শাকিল আহম্মেদ এ সময়ে ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ঠিকারদাররা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি।

ঠিকাদারদের পক্ষে সিফাত-রিফাত এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. শরিফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘পছন্দের লোকজনকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ এ ধরনের কারসাজি করেছেন। ’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল বিভাগের ইনচার্জ শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কদিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসে বাক্স রেখে গেছি। সোমবার অধ্যক্ষের নির্দেশমতো সকাল পৌনে ১১টার সময় বাক্স সিলগালা করাতে যাই। আগে থেকে দরপত্র জমা দেখতে পাই। বেশ কিছু ঠিকাদার তাঁদের দরপত্র বাক্সে না ফেলে শেষ পর্যন্ত আমার হাতে জমা দিয়েছেন। তাঁরা একটি অভিযোগপত্রও দিয়েছেন। ’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউল আহসান তালুকদার বলেন, ‘পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের পদ্ধতিগত ত্রুটি ও দায়িত্বে অবহেলা ছিল। ঠিকাদাররা এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। ’

দরপত্রপ্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়েছে দাবি করে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান খান বলেন, ‘গত কদিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দরপত্র ফেলার জন্য লোক মারফত তালাবদ্ধ বাক্স দিয়ে এসেছি। সিলগালা নেই, তাতে কোনো সমস্যা নেই। পুলিশের পাশাপাশি আমার লোকজনও তো সেখানে ছিল। ’


মন্তব্য